সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কামাল মনসুর এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত আত্ম মর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াতে হবে মহিমান্বিত ও অলৌকিক রাত শবে মেরাজ শ্রীমঙ্গলে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে ভারতীয় পন্য সহ আটক ১ দবিরুল ইসলাম ওবিই এর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের শোক প্রকাশ মৌলভীবাজারে ধামতিপুরী (রঃ) এর ইসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নন্দিত আলেম শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ রহঃ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাছ পাচারকালে ইলিশ সহ দুই ট্রাক আটক

নব্যতা হারিয়ে হবিগঞ্জের খরস্রোতা নদীগুলো এখন ধু-ধু বালুচর

এম,এ আহমদ আজাদ, হবিগঞ্জ
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৯৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা নদী গুলো এখন মরা খাল, বছরের অধিকাংশ সময় থাকে শুকনো ধুধু বালুচর। নদীর বুক চিঁড়ে চাষ হচ্ছে সোনালি ফসল। অধিকাংশ নদী মরে গেছে। ভরাট হয়ে গেছে শতাধিক খাল, বিল, ঝিল, ডোবা ও জলাধার। সংকুচিত হয়ে পড়ছে পানি প্রবাহ। বিলীন হতে চলছে এসব নদীর অস্তিত্ব।

ফলে বোরো ফসলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। হুমকির মূখে পড়ছে হাওড় ও বিভিন্ন প্রজাতীর ব্যাঙ, কচ্ছপ, শামুক, ঝিনুক সহ শতাধিক প্রজাতির দেশীয় মাছ। হারিয়ে গেছে জেলেদের জীবন-যাত্রা, এলাকায় দেখা দিয়েছে দেশি মাছের আকাল। এ ছাড়া নদী ও হাওড়ের উপর নির্ভরশীল শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থানের উপর পড়ছে প্রভাব।

এই নদী গুলো ছিল এই এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যম। নদীর পানি দিয়ে চলতো কৃষকের চাষাবাদ ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো জেলে সম্প্রদায়। শুধু তাই নয় নদীর মাছ   দিয়ে মেটানো হতো এলাকার দেশি মাছের চাহিদা।

পরিবেশ বিদদের মতে, ভৌগলিক ভূতাত্বিক অবস্থানগত কারণে নবীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খড়স্রোতা নদী গুলোর কোনো কোনো টা স্রোতহীন আবার কোনো কোনোটা শুকিয়ে গেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শাখা বরাক ও ডেবনা নদী সহ প্রায় অর্ধশতাধিক নদী। এতে পানি প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। ফলে কৃষি চাষে কৃষকগণের খরচ বেড়েছে।

অনেক স্থানে নদীর চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে হুমকির মূখে পড়ছে জীব বৈচিত্র। তেমনি নবীগঞ্জের খরস্রোতা ডেবনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। পলি ও বালু জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বিপন্ন হয়ে পড়েছে এর জীববৈচির্ত্য।

ডেবনা নদীটি বরাক নদীর শাখা নদী হিসাবে পরিচিত। সর্পিল গতির খরস্রোতা শাখা বরাক ডেবনা নদীটি নবীগঞ্জের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসলেও এখন তা অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা বালিমাটি ও পলি জমে নদীর উৎস মূখ ভরাট হয়ে গেছে।

সেচ, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পানির অন্যতম উৎস নদীটি এখন ক্ষীনকায় মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে শত শত জেলে ও তার পরিবার। বেকার জেলে পরিবার গুলো এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূখে ডেবনা নদীর পরিবেশ এখন বিপন্ন ও জীববৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়েছে। সম্ভাবনাময় ডেবনা নদীটি খনন না করায় এক দিকে যেমন নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে, তেমনি প্রাণহীন নদীর বুকে ব্যস্ত কৃষক, জেলেদের জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এখন নদীর চর দখলে ব্যস্ত ভূমি খেকোরা। নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে বসতভিটা। চলছে অবৈধ দখল। এক সময় এ নদীর পানি দিয়েই কৃষকরা শত শত হেক্টর জমি চাষ করতেন।

দেবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এড.জাবিদ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের শাখা বরাক নদী সম্পূর্ন শুকিয়ে গেছে তা পূনঃখনন করা না হলে এটি দিয়ে বর্ষা মওসুমেও নৌকা চলাচল ও পানি নিস্কাশন এ সমস্যার সম্মুখিন হবে।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, আমরা নবীগঞ্জের ভরাটকৃত নদী নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন । পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনওয়াজ বলেন, আমি কয়েকটি নব্যতা হারানো নদী পুনঃ খনন করে নব্যতা ফেরানোর জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীকে ডিও লেটার প্রদানন করেছি। আশা করি এসব নদীর খনন কাজ অচিরেই শুরু হবে।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকটি খনন প্রকল্পের প্রস্তাব পানি উন্নয়ন বোডের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি এসব প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পাশ হয়ে আসলে নাব্যতা হারানো নদীগুলো আবার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে ও পানি নিস্কাশন সমস্যার সমাধান হবে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102