

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক উদ্যোক্তা আহমেদ মুক্তাকির প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমআই ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ‘সমাবর্তন ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এম আই ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে। বর্তমানে মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে এমআই কলেজের ১৭টি শাখায় ৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই মালদ্বীপের নাগরিক। ২০০৬ সালে বাংলাদেশি আহমেদ মোত্তাকির প্রতিষ্ঠিত কলেজটি মালদ্বীপের শিক্ষা প্রসারে গুরুত্ব অবদান রাখছে।
প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক সফলতা অর্জন করেছেন মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। তবে কৃষি কোর্স পরিচালনা ও কৃষি গবেষণায় তাদের সাফল্য চোখে পড়ার মত। আগামিতে কলেজটিকে একটি পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা।
শনিবার ২৬ নভেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালের গিয়াসউদ্দিন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল হল রুমে সকাল থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় সময় রাত ১১ টা পর্যন্ত চলে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ইব্রাহিম হাসান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আব্দুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ থেকে আগত চ্যানেলের আই এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ডিরেক্টর, মেডাম লামিয়া আব্দুল হাদি ,মিসেস শাহানা সিরাজ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক, শিক্ষা উদ্যোক্তা আহমেদ মোত্তাকি এবং মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সিইও) মোহাম্মদ হালিম।
সমাপনী বক্তব্যে হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন স্নাতক উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং শীর্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ডিগ্রি ও পদক বিতরণ করেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অর্জিত শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে নিজ দেশ এবং বিশ্বের কল্যাণে অবদান রাখার জন্য অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।
হাইকমিশনার এস.এম.আবুল কালাম আজদ বলেন, বাংলাদেশী মালিকানাধীন আহমেদ মোত্তাকির প্রতিষ্ঠিত মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজেটির কৃষি বিষয়ক কোর্স পরিচালনায় এবং গবেষণায় তাদের সাফল্য চোখের পড়ার মতো। যাহা মালদ্বীপে বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য সুনাম অর্জনের এক মাইলফলক ।
হাই কমিশনার এমআই কলেজের মাধ্যমে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদানে এবং অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য বাংলাদেশি হিসেবে আহমেদ মোত্তাকিকে অনেক ধন্যবাদ জানান। হাই কমিশনার শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রসহ অতিতের মত ভবিষ্যতেও মালদ্বীপের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রয়োজনে বাংলাদেশের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে তার প্রতিশ্রুতি পুনঃব্যক্ত করেন।
মালদ্বীপের মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে সম্মানসূচক অ্যাম্বাসেডর অব এগ্রিকালচার অ্যাওয়ার্ড পেয়োছেন কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। কলেজের অষ্টম সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে এই পুরুস্কার পেয়েছেন তিনি।
১৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মালদ্বীপের সবচাইতে বড় বেসরকারি কলেজ মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক এই কলেজে প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গ্রাজুয়েট হয়েছেন ৮১৭ জন।
মালদ্বীপের শীর্ষস্থানীয় এই কলেজটির ৪টি ফ্যাকাল্টিতে ৬১ জনকে বোঝ পড়ানো হয়। এরমধ্যেই কৃষি বিষয়ক কোর্সটি ওই দেশের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছে।

উদ্যোগতারা জানান, শাইখ সিরাজের মাটি ও মানুষের টিভি প্রোগ্রামের অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষি কোর্স ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্র চালু করেছেন।
উল্লেখ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের মিয়াবাড়ির আহমেদ মোত্তাকি ৩০ বছর ধরে মালদ্বীপে প্রবাসী। প্রবাস জীবনটা দেশটির সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করলেও এখন তিনি একজন বাংলাদেশি শিক্ষা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী।
তার মালিকানার মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ মালদ্বীপে বাংলদেশি খাদ্য ও কৃষিপণ্যের বড় আমদানিকারক খ্যাতি পেয়েছে। এ ছাড়াও বিপুল সংখ্যার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছে।