রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কারি শিল্প রক্ষায় পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন শাহজালাল মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি গঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত গৎবাঁধা পদ্ধতিতে প্রকল্প চালানো যাবে না- ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি ফের শালবাহান ইউপির দায়িত্বে আশরাফুল ইসলাম সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত জনগণের সমর্থনে আওয়ামী লীগ শীঘ্রই শক্তিশালী হয়ে ফিরবে—-শেখ হাসিনা শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু নিলামে বিক্রি রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেরাজুল হোসেন এর দাফন সম্পন্ন

৫ দফা দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২
  • ২১৭ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আপত্তিকর ধারা সংশোধন, সংবাদমাধ্যমে ৯ম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা। দাবি আদায় না হলে রাস্তায় নামার ও আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তারা।

শনিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বসে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে একাংশ) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই। তাদের ওপর যেখানে সেখানে হামলা ও মামলা হচ্ছে। টেলিভিশনের, পত্রিকার, অনলাইনের লাইসেন্স দিলে প্রত্যেক সাংবাদিককে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও দিতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, আমাদের কোনো বেতন কাঠামো নেই। এক অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা বাক্সবন্দী হয়ে আছে। এমন অবস্থায় সরকার কেন নিশ্চুপ তা বোধগম্য নয়। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।  

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব দীপ আজাদ বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আজ ষড়যন্ত্র চলছে, এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। একইসঙ্গে বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র নিয়ে যারা দুর্নীতি করে, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড শুধু বাসস ছাড়া দেশের আর কোথাও বাস্তবায়ন নেই। এক দেশে এমন দুই আইন কীভাবে হয়! আরেকটা হলো আমাদের কাজ করার অধিকার। তাহলে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানো হচ্ছে কেন? এতে আমাদের কাজ করার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এরপর রয়েছে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন। এতে করে আইনের প্রয়োগ এবং অপপ্রোয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। চার বছর আগে যখন এই আইন পাস হয়, তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন কোথাও সাংবাদিকদের নামে মামলা হলে আমি নিজে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়াবো। আজ আইনমন্ত্রী কোথায়?

তিনি বলেন, অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার জায়গায় আজ সাংবাদিকরা পিছিয়ে যাচ্ছে।  

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকের ওপর খড়গ হিসেবে ঝুলছে। যখনই কোনো রিপোর্ট কারও বিরুদ্ধে যায়, যখনই সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু লিখেন, তখনই বিভিন্ন মহল থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। আমরা সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে বারবার কথা বলেছি। তাতে কোনো লাভ হয়নি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে পরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বলা হয়নি যে, সাংবাদিকরা কোনো প্রতিবেদন করলে বা সেখানে গেলে কোনো হয়রানি হবে না।  

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের কোনো বেতন কাঠামো নেই। প্রিন্ট পত্রিকার যতটুকু আছে, অনলাইন বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সেটিও নেই। আমরা বারবার এই কথা বলে আসছি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা বলেন, একজন সাংবাদিক সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১১টায় বাসায় ফেরেন। অনেক প্রতিষ্ঠানের কথা আমরা শুনতে পাই, তারা বলেন সাংবাদিকদের ৮ ঘণ্টা বলতে কোনো ডিউটি নেই। সাংবাদিকদের ডিউটি সারাদিন। সাংবাদিকদের অধিকারই যদি প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে গণমাধ্যম আইন দিয়ে আমাদের কী হবে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলতে হবে। সাংবাদিকরা কি শ্রম আইনেও পড়ে না। তাহলে কেন সাংবাদিকদের এভাবে খাটানো হচ্ছে? 

তারা আরো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ঠিক মতো বেতন দিচ্ছে না। আমাদের কোনো বেতন কাঠামো নেই। ৮ম, ৯ম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন ঠেকে আছে কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। না হলে রাস্তায় নেমে আমরা দাবি আদায় করে নেব।

সাংবাদিকদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো-
১. অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন দিতে হবে। তা না হলে যারা বেতন দিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
২.সাংবাদিকদের ওপর হামলা মামলা বন্ধ করতে হবে।
৩.সচিবালয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
৪. গণমাধ্যমের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করতে হবে।

ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, সহ সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, দপ্তর সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, আশরাফুল ইসলাম, তপন কুমার বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, বায়েজিদ মুন্সি, মুনসুর হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, শিবলী নোমানী ও প্রেসক্লাবের কোষাধক্ষ্য শাহেদ চৌধুরী।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102