

মিজানুর রহমান: দেখা না পেয়ে অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে ফিরে যাওয়া ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েনের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সাক্ষাৎ আজ। শিডিউল মতে মধ্যাহ্নে সেগুনবাগিচায় একান্ত আলোচনা হবে সচিব ও রাষ্ট্রদূতের। সেখানে উভয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও একদিন আগে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে কথা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচিবের সাক্ষাৎ না পেয়ে ডাচ্ রাষ্ট্রদূতের ফিরে যাওয়ার ঘটনাটি তার নিজের এবং ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবক কানাডিয়ান দূতের তো বটেই বাংলাদেশকেও বিব্রত করেছে। সচিব শেষ পর্যন্ত ডাচ্ রাষ্ট্রদূতকে আলাদা সাক্ষাৎ দিতে রাজি হয়েছিলেন। সেটি কানাডিয়ান দূতের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের পর। কিন্তু ডাচ্ রাষ্ট্রদূত সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ফিরে গেছেন।
আর এ কারণেই দুনিয়াব্যাপী খবর হয়ে গেছে ঘটনাটি! সেগুনবাগিচা বলছে, ঘটনাটি আচমকা ঘটে গেছে। ভিন দেশের দু’জন কূটনীতিক একসঙ্গে কথা বলতে মন্ত্রণালয়ে আসতেই পারেন। কিন্তু যথাযথ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসা উচিত ছিল। ডাচ্ রাষ্ট্রদূত পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ফাইয়াজ মুর্শেদ কাজীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হয়নি। বৈঠকের কথা স্বীকার করেন মহাপরিচালক ফাইয়াজ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুধবার ডাচ্ রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। অ্যাপয়েনমেন্ট চূড়ান্ত হয়েছে-এটা বলতে পারি। কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকাস্থ কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি ছিল পূর্বনির্ধারিত।
কিন্তু তিনি যে ডাচ্ রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে হাজির হবেন, তা মন্ত্রণালয়ের জানা ছিল না। নির্ধারিত সময়ের অল্প আগে কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে যৌথ বৈঠকের আগ্রহের বিষয়টি জানানো হয়। ততক্ষণে দূতদ্বয় সেগুনবাগিচায় পৌঁছে গেছেন। তৎক্ষণাৎ আমেরিকাস অনুবিভাগের তরফে বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবের নোটিশে আনা হয়। জানানো হয়, দুই কূটনীতিক একত্রে সাক্ষাৎ চান।
সচিব জানতে চান, ডাচ্ রাষ্ট্রদূতের কোনো অ্যাপয়েনমেন্ট আছে কিনা? বা তারা যে এক সঙ্গে দেখা করতে আসবেন সে বিষয়ে কানাডা মিশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়ার সময়ে কিছু বলেছিল কিনা? কর্মকর্তাদের ‘না’ সূচক জবাব পেয়ে সচিব বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করবেন। পরে ডাচ্ রাষ্ট্রদূত চাইলে সাক্ষাৎ হতে পারে। সচিবের এমন সিদ্ধান্তে নিরুপায় কানাডিয়ান দূত লিলি নিকোলস সহকর্মী ডাচ্ রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েনকে অভ্যর্থনা কক্ষে রেখেই সচিবের দপ্তরের দিকে পা বাড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাচ্ দূত সাক্ষাৎ না করেই সেগুনবাগিচা ছেড়ে যান। সূত্র: মানবজমিন।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম