

যশোর সংবাদদাতাঃ একেতো চৈত্রের গরম, তার ওপরে রোজার মাস; তরমুজ এবার বাজারে এসেছে একেবারে সময়মত। রোজার দিনে শরীরে পানির চাহিদা পূরণে ইফতারে তরমুজ অনেকেরই পছন্দ। ফলন ভালো হওয়ায় এবার বাজারে এ ফলের সরবরাহ প্রচুর।
তবে যশোরের বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রয় করা হচ্ছে তরমুজ। মঙ্গলবার শহরের তরমুজের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায় অন্য বছরের তুলনায় এবছর দাম আরো বেশি। পাইকারি বিক্রয় করা হচ্ছে সর্বনিম্ন প্রতি পিচ তরমুজ ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচশত টাকা। পাইকাররা পিচ হিসেবে তরমুজ কিনলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসেবে। মঙ্গলবার যশোর জেলা শহরের বাজারে তরমুজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।
হঠাৎ করেই যশোরে তরমুজের দাম বেড়ে গেছে! মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি তরমুজের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেই তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এখন সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি।
ফলে যশোরের তাপমাত্রা যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তেমনি বাড়ছে তরমুজের দাম। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে এ অঞ্চলের মানুষ। দাবদাহ থেকে সামান্য পরিত্রাণ পেতে ইফতারে ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা তরমুজই পছন্দ করেন। কিন্তু আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে এখন আর তরমুজের স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেররা। এরইমধ্যে তরমুজের দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
অভিযোগ উঠেছে- সিন্ডিকেট করে যশোরের তরমুজ ব্যবসায়ীরা মনমতো তরমুজের দাম বাড়িয়েছেন। প্রচুর সরবরাহ থাকলেও সংকটের কথা বলে তরমুজের দাম বেশি নিচ্ছেন।

সাধারণত রোজার সময় ফলের কদর বাড়ে। ফল ছাড়া ইফতার যেন কল্পনাই করা যায় না। এদিকে গ্রীষ্মকাল শুরু হলেও পরিপক্ব না হওয়ায় বাজারে এখনও আসেনি চাহিদা অনুযায়ী মৌসুমী ফল। তাই বাজারে থাকা গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজের ওপরই এখন ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। আর এ সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা তরমুজের দাম হাঁকাচ্ছেন ইচ্ছেমতো। এই মধ্য মার্চেও যে তরমুজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল এখন তা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রমজানে দাম সহনশীল রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও রোজা শুরুর পর সেই প্রতিশ্রুতি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নানান অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়নি। এর ওপর চৈত্রের শুরুতেই প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করায় বেশি দাম পাওয়ার আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই মাঠ থেকে তরমুজ তুলে বিক্রি করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, এখন আর মাঠে তরমুজ নেই। তাই বাজারে তরমুজের সরবরাহ কমেছে। আর তাই দামও বেড়েছে।
সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদরের রুপদিয়ার তরমুজ ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন,তাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। এবারে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে যশোরে তরমুজ আসছে। বর্তমানে তরমুজ এর উৎপাদন প্রায় শেষের দিকে এজন্য সরবরাহ কম।