

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন সংবেদনশীল সময়ে সীমান্তবর্তী যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য দেশে প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ৮ ট্রাকে করে ১২৫ মেট্রিক টন বিস্ফোরক আমদানি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য বোঝাই ট্রাকগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ট্রাকগুলো বন্দরে ঢোকার পরপরই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
বিস্ফোরক দ্রব্যের এই চালানটি আমদানি করেছে বাংলাদেশের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের সুপার সিভা শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র অনুযায়ী এটি শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহারের জন্য নিয়মিত আমদানি হলেও সময় ও প্রেক্ষাপট জনমনে আলাদা শঙ্কা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্যের চালানটি সরকারি অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দর এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
তবে পুলিশের আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের উদ্বেগ কাটছে না। বন্দর সংলগ্ন এলাকার বয়স্ক ছমেদ আলীসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দারা বলেন, নির্বাচনের আগে সীমান্ত এলাকায় এত বড় বিস্ফোরকের চালান ঢুকছে শুনে ভয় তো লাগবেই। কিছু হলে তার দায় কে নেবে? নির্বাচনকালীন সময়ে এমন সংবেদনশীল পণ্য আমদানি ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রশাসনের উচিত আরও সতর্ক ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে জনমনে ভয় ও গুজব না ছড়ায়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পের খনন কাজ পরিচালনার জন্য ভারত থেকে মোট ১২৭ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য আনা হয়েছে। বর্তমানে বিস্ফোরক বোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলো বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।
বন্দর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বাংলাদেশি ট্রাকে করে দিনাজপুরে পাঠানো হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।