

চেন্নাই টেস্টই যেন রাজকীয় এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতির প্রতিচ্ছবি। পাকিস্তানের মাটিতে আধিপত্য দেখালেও ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে টাইগাররা। চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা একেবারে ক্ষীণ। বরং বড় হারের শঙ্কা নিয়েই তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে শান্ত বাহিনী।
হাতে ৬ সেশনের বেশি সময় নিয়ে ৫১৫ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্য টপকাতে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমে টালমাটাল অবস্থা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৫৮ রান যোগ করেছে টাইগাররা। এতে এই টেস্ট বাঁচানো সফরকারীদের জন্য শুধু চ্যালেঞ্জই নয়, অসম্ভবই বটে। শান্তর সঙ্গে আরেক অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব চতুর্থ দিনের শুরু করবেন।
পাহাড়সমান লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন জাকির ও সাদমান। তাদের ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে বিনা উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। তবে চা বিরতি থেকে ফেরার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি জাকির। বুমরাহর বলে জয়সওয়ালের মুঠোবন্দি হয় ৩৩ রানে জাকির ফিরলে ভাঙে তাদের ৬২ রানের জুটি।
এরপর চেন্নাই টেস্টে অশ্বিনকে প্রথম উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন সাদমান। শর্ট মিডউইকেটে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬৮ বলে ৩৫ রান ফেরেন এই ওপেনার।
অশ্বিনের দ্বিতীয় শিকার বনে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল হক। ফেরার আগে ২৪ বলে ১৩ রান করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
এরপর দলের অন্যতম ভরসার নাম মুশফিকও বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। দুই অঙ্কের কোটা পেরোনোর পর অশ্বিনের তৃতীয় শিকার হয়ে মিড–অফে লোকেশ রাহুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার।
তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ১০ ইনিংস পর টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। অশ্বিনকে ওভার বাউন্ডারি হাকিয়ে ৪৪ থেকে ৫০ রানে পৌঁছান টাইগার দলপতি।
এরপর দিনের ১০ ওভার বাকি থাকতেই আলোকস্বল্পতার কারণে ক্রিকেটারদের মাঠ ছাড়তে বলেন আম্পায়াররা। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় চেন্নাই টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। শেষপর্যন্ত ৩৭ দশমিক ২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৮ রানে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। জয় থেকে এখনো ৩৫৭ রান দূরে টাইগাররা। ৫১ রানে শান্ত ও ৫ রানে সাকিব অপরাজিত আছেন। সেখান থেকেই চর্তুথ দিনের খেলা শুরু করবেন তারা। অন্যদিকে চেন্নাই টেস্টে জিততে ভারতের দরকার বাকি ৬ উইকেট।
এর আগে, ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ভারত। সকাল থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন গিল এবং পান্ত। প্রথম ঘণ্টাতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন গিল। অন্যপ্রান্তে পান্তও ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন। ৮৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার।
হাফ-সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর আরও হাত খুলে খেলতে শুরু করেন তারা। প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। এ সময়ে পান্তের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন অধিনায়ক শান্ত। শেষমেশ শান্তর ক্যাচ মিসের হতাশা নিয়েই মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
৮২ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া পান্ত দ্বিতীয় সেশনের চতুর্থ ওভারেই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেন। তবে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১২৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংস সাজান পান্ত।
পান্তের বিদায়ের পর টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিতে গিলও বেশিক্ষণ সময় নেননি। ১৬১ বলে তিন অঙ্কের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এটি চলতি বছরে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
শেষমেশ ৬৪ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮৭ রান তুলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ঘোষণা করে ভারত। ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ১৭৬ বলে ১১৯ রানে গিল এবং ৪ বাউন্ডারিতে ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন রাহুল।
এর আগে, এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে শুরুর বিপর্যয় সামলে অশ্বিন-জাদেজার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রানে থামে টিম ইন্ডিয়া। জবাবে ফলো-অন এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যান ইন ব্লু’দের আগুন ঝরা বোলিংয়ে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।
নিউজ /এমএসএম