

চার হাজার দিনের বেশি সময় ধরে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে অপরাজিত ভারত। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচ খেলে কখনোই টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ১১ হারের বিপরীতে দুটিতে ড্র করেছে টাইগাররা। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরে পেস সহায়ক পিচে স্বাগতিক বোলারদের তোপে দুই টেস্ট ম্যাচই তিনদিনে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সদ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ভারতের বিপক্ষে থাকা প্রায় একই রকমের রেকর্ড নিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে নেমে অতীতের দুঃস্মৃতি মুছে দেয় টাইগাররা। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের নজির গড়ে লাল-সবুজেরা।
শান্ত জানান, ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে অতীতের চেয়ে এবার অনেক বেশি প্রস্তুত বাংলাদেশ।
চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে শান্ত বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হতে যাচ্ছে। এজন্য আমরা অনেক বেশি সর্তক। পাকিস্তানে ভালো সিরিজের পর দল এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এই দল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং ছেলেরা বিশ্বাস করে, আমরা ভারতকে হারাতে পারি। প্রতিটি সিরিজই একটি সুযোগ। আমরা দুটি ম্যাচই জয়ের জন্য খেলবো।’
ভারতের অজেয় রেকর্ডের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষ্যের কথাও জানান শান্ত।
টাইগার এই অধিনায়ক বলেন, ‘প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ম্যাচ জয়ের জন্য প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। আমরা যদি আমাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে ভালো ফলাফল সম্ভব।’
এদিকে ভারত সফরে কিছুটা এগিয়ে বাংলাদেশ। কিছুদিন আগেই টেস্ট খেলেছে টাইগাররা। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল ভারত। যেহেতু ৮ মাস আগে টেস্ট খেলেছে, এজন্য কিছুটা চাপে থাকবে ভারত। প্রতিপক্ষের চাপে থাকার সুযোগটা লুফে নিতে চাইবে বাংলাদেশ।
শান্ত বলেন, ‘আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। কিন্তু সম্প্রতি আমরা ভালো খেলছি। পাকিস্তানে আমাদের ভালো একটি সিরিজ হয়েছে। যা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। টেস্ট জিততে হলে পাঁচদিন ভালো খেলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য পাঁচদিন ভালো খেলা। শেষদিনে শেষ সেশনে ফল আসতে পারে। আমরা যদি পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলি, তাহলে শেষ সেশনে জয়ের সুযোগ আছে।’
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্ট এবং ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে কানপুরে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ ও ভারত। দুই টেস্টের পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দু’দল।
ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। হঠাৎ করে টেস্টে বাংলাদেশের জ্বলে ওঠায় চিন্তিত টিম ইন্ডিয়া। সেটি ভারতের অনুশীলনের পদ্ধতিতেও ফুটে উঠেছে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরে দু’দলের সর্বশেষ টেস্টে ভারতকে হারের মুখে ঠেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে স্বস্তির জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। টেস্টে বাংলাদেশের দুর্দান্ত লড়াই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সংস্করণে এখন আর সহজ দল নয় তারা।
নিউজ /এমএসএম