সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করার পেছনে রাশিয়া জড়িত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪
  • ১০৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা রাশিয়ার বিভ্রান্তিমূলক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রচার-প্রচারণার সাথে রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যম জড়িত। বুধবার ভয়েস অব আমেরিকা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আখ্যানটি নতুন কিছু নয়: কয়েক দশক ধরে রাশিয়া দেশীয় রাজনীতি ও স্থানীয় অভিযোগের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে মার্কিন-উদ্দীপিত ‘সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক এবং জনপ্রিয় বিক্ষোভকে অসম্মান করার চেষ্টা করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পুটনিকের ভাষ্য ও বিশ্লেষণে বারবার সেই ঘটনাগুলোকে বর্ণনা করা হয়েছে যেগুলোর কারণে হাসিনাকে পদত্যাগ করতে এবং ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ আগস্ট ভারতের ইকোনমিক টাইমস সংবাদপত্র একটি অপ্রকাশিত বক্তৃতার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যাতে হাসিনার ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের’ বরাত দেওয়া হয়েছিল।

কথিত সেই বক্তৃতায় হাসিনা বলেছিলেন, তিনি যদি বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বভৌমত্ব ‘আত্মসমর্পণ’ করতেন এবং ‘আমেরিকাকে বঙ্গোপসাগরের উপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে’ দিতেন তাহলে তিনি ‘ক্ষমতায় থাকতেন।

১১ আগস্ট হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জানিয়েছিলেন, তার মাকে সম্পৃক্ত করা ‘পদত্যাগের বিবৃতি’ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

হোয়াইট হাউস সেন্টমার্টিন নিয়ে এই দাবিকে ‘শুধু মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।

রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক ইন্ডিয়া বারবার কুখ্যাত ‘পদত্যাগপত্র’ শব্দটি ব্যবহার করে দাবি করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছে।

২০২৩ সালের জুনে হাসিনা প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে, তার অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষ ও বাইরের শক্তিগুলো সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকি দিচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ দখলের বিষয়ে কোনো আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিল না।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ সহযোগী নিকোলাই পাত্রুশেভও দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। কারণ হাসিনা সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন।

স্পুটনিক ইন্ডিয়া এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।

১৮ আগস্ট এক্স-এ এক পোস্টে স্পুটনিক ইন্ডিয়া দাবি করেছিল, হাসিনা সরকার মে মাসে আবিষ্কৃত একটি অফশোর গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। ‘এক্সন মবিলের মতো বড় মার্কিন সংস্থাগুলো’ এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি জিআইএফ চিত্র অন্তর্ভুক্ত করা সেই পোস্টটিতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেই সম্পদের আবিষ্কার এবং হাসিনার পদত্যাগ একটি ‘কাকতালীয়’ ঘটনা কিনা।

বাস্তব চিত্র হচ্ছে-বাংলাদেশ মে মাসে একটি গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কার করেছিল। কিন্তু একটি স্থানীয় সংস্থা সেই গ্যাস উত্তোলন করছে।

আরো কয়েক মাস আগে রাশিয়ার দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকারের পতন ঘটাবে।

৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আরব বসন্ত’ ধরণের অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করার এবং ‘পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার’ পরিকল্পনা করার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন।

ওই সময় হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তার মুখপাত্র জন কিরবি এই অভিযোগকে ‘ক্লাসিক রুশ প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102