

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে মৌলভীবাজারে ৪ আগস্ট বাধা ও হামলার ঘটনায় সাবেক দুই এমপিসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১৫৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ জনকে। বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার মডেল থানায় বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক আব্দুল কাদির তালুকদার।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৪ আগস্ট জেলা সদরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। এ সময় সাবেক ও সদ্য সাবেক এমপি’র নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়।
একপর্যায়ের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ও গুলি চালিয়ে চালিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে শিক্ষার্থীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। সাবেক এমপি জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি নেছার আহমদসহ হামলায় জড়িত ১৫৫ জন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলায় আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে রাখা হয়। মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমন, পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জালাল আহমেদ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর সৈয়দ সেলিম হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রাধাপদ দেব সজল, জেলা যুবলীগ নেতা শেখ রুমেল আহমেদ, রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বকত, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান, মসুদুর রহমান মসুদ, জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী আমীন, জেলা যুবলীগ নেতা গৌছ উদ্দিন নিক্সন, যুবলীগ নেতা শিমুল চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আনিসুল ইসলাম চৌধুরী তুষার, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোশারফ টিটু, ইউপি চেয়ারম্যান আকতার উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাকারিয়া ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনি, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সুজিত দাস প্রমুখ। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ /এমএসএম