

খুলনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. সুমন নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনার জিরো পয়েন্ট, গল্লামারী মোড় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশের দাবি সুমনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রাত পৌনে ৯টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সংঘর্ষে ২৫ জন পুলিশ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কনস্টেবল মো. সুমন নিহত হয়েছেন। তিনি পুলিশ লাইন্সে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ২টায় খুলনা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে বৃষ্টি ও পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল শুরু করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি গল্লামারী মোড়ে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এসময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতন্ড শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। পরে পুলিশ টিয়ারসেল ছুড়লে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পরে আবার আন্দোলনকারীরা জড় হতে থাকলে বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দুই পাশ দিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে। বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকল ছুড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সুমন নামের এক পুলিশ সদস্য নিহত ও ৩ পুলিশ গুরুত্বর আহত হয়।
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১৬ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় পুলিশের ২০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিউজ /এমএসএম