সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কামাল মনসুর এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত আত্ম মর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াতে হবে মহিমান্বিত ও অলৌকিক রাত শবে মেরাজ শ্রীমঙ্গলে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে ভারতীয় পন্য সহ আটক ১ দবিরুল ইসলাম ওবিই এর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের শোক প্রকাশ মৌলভীবাজারে ধামতিপুরী (রঃ) এর ইসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নন্দিত আলেম শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ রহঃ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাছ পাচারকালে ইলিশ সহ দুই ট্রাক আটক

টাঙ্গুয়া হাওড়ে

হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৪৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বাংলাদেশে টাঙ্গুয়া হাওড়ে এখন । প্রতিদিন উজার করা হচ্ছে সবুজ বৃক্ষ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট মাদার ফিশারিজ খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওড়ের জীব বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।

হাওড় থেকে প্রতিনিয়ত জ্বালানি হিসেবে অবাধে কেটে নেয়া হচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছ। উজাড় করা হচ্ছে ঘন সবুজ বন।

বিশাল টাঙ্গুয়া হাওড়ের জলারাশির চারদিকে হিজল-করচ নলখাগড়া, চাইল্যাবনসহ বিভিন্ন জাতের গাছ গাছালিতে সমৃদ্ধ অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজের সমারোহে বেষ্টিত অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর টাঙ্গুয়ার হাওড়ের জীব বৈচিত্র্য এখন অনেকটাই তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্য ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে।

ফলে বিপন্ন হচ্ছে হাওড় ও টাঙ্গুয়ার হাওড়ের পরিবেশ। এক শ্রেণির বনখেকো চক্রের কবলে ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের হিজল করচসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, ৯০ দশকের শুরুতে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে আসলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশের ৮টি স্থানকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি উত্থাপন করে।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সঙ্গে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়, যশোরের মাঠচান্দ, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া দ্বীপ টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চল, সিলেটের কুলাউড়ার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওড় পরিবেশের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয় এবং এই ৮টি স্থানে ১৯৯৭ সালের ২৮শে আগস্ট জারিকৃত পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা কার্যকর হয়।

সারা বিশ্বে রামসার আওতাভুক্ত এলাকা হচ্ছে ১০৩১টি এরমধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওড় হচ্ছে অন্যতম। রামসার কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি ঘটে ১৯৯২ সালের মে মাসে। পরবর্তীকালে রামসার সাইট হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায় সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর।

রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওড়ে প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ এবং কর্তৃত্ব পরিবর্তিত হয়। টাঙ্গুয়ার হাওড় একটি বৃহৎ জলমহাল হিসেবে কর্তৃত্ব ছিল শুধুমাত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ের হাতে। এখন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের হাতে। রামসার ঘোষণার পর টাঙ্গুয়ার হাওড়ের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের দিক নিয়েও নতুন সম্ভাবনা জেগে ওঠেছে।

সরজমিন টাঙ্গুয়ার হাওড়ে গিয়ে দেখা যায়, হাওড়পাড়ের কিছু মানুষ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নলখাগড়া, বনতুলসী, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছের ডালপালা ছোট ছোট নৌকা বোঝাই করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে যে যার মতো করে।

টাঙ্গুয়ার হাওড় গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মনির হোসেন বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য কিছু লোক বনতুলসী, চাইল্যাবন ও নলখাগড়া কেটে নিয়ে যায়।

গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তো আপনাদের? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কি করবো, এগুলো তো কমিউনিটি গার্ড দেখবে। আর বিশেষ করে আনসাররা তো সারাদিন ক্যাম্পে বসে থাকে। আনসাররা তৎপরতা বাড়ালে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

টাঙ্গুয়া হাওর পাড়ের তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসাররা নিজেদের পকেট ভারি করতে মাছ ধরা ও গাছ কাটার সুযোগ দিচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিপন্ন হতে পারে হাওরের পরিবেশ ও জনবসতি। নলখাগড়া চাইল্যাবন হিজল করচ গাছের ডালপালাগুলো কেটে গোলাবাড়ি ও মন্দিয়াতা ক্যাম্পের সম্মুখ দিয়ে নিয়ে যায়। অথচ আনসাররা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের সানজু মিয়া বলেন, গত দুই দশক ধরে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে গাছ কাটা চলছে। এখন হাওড়ে গাছপালা আগের মতো নেই।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই বনখেকোরা প্রকাশ্যে নৌকা বোঝাই করে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন ও হিজলবন থেকে।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, হাওড়পাড়ের লোকজনদেরকে সচেতন করতে ও পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতামূলক কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। যাতে তারা নিজ দায়িত্ব থেকেই টাঙ্গুয়া হাওড় সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে থাকে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, যারা টাঙ্গুয়ার হাওড়ের নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল করচ গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102