মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হযরত শাহ জালাল (র.) মাজারে রাজনৈতিক শ্লোগানের নিন্দা ও প্রতিবাদ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ট্রলি সেবায় টাকা আদায়ে নিষেধাজ্ঞায় স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষোভে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সাউথ ওয়েষ্ট রিজিওনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সোয়ানসি মৌলভীবাজার এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত যশোরে হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তেতুলিয়ায় আমের মুকুলের ঘ্রাণে মধুমাসের আগমনী বার্তা নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ও বাংলা ট্র্যাভেলসের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধা উপনির্বাচন বন্ধ কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়: সিইসি

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৫৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, গাইবান্ধা উপনির্বাচন বন্ধ ইসির কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এ নির্বাচনটি বন্ধ করি। তবে কাদের দোষে বা অবহেলায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু হয়নি, কারচুপি ও জোর করে ভোটারের আঙুলের ছাপ নেবার পরে তাকে বের করে দিয়ে একটি দলের দলীয় কর্মীরা ইভিএমে চাপ দিচ্ছিল তা তদন্ত করতে ইসি ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, তাতে গতকাল আমরা দেখেছি বিঘ্নিত হয়েছে। প্রায় ৫১টি কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যদি সবগুলো পর্যবেক্ষণ করা যেত তাহলে হয়তো একি ঘটনা পরিলক্ষিত হতো। সে কারণে রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এবং ইসি বৈঠক করে গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচন আমরা বন্ধ করতে বাধ্য হই। এ ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ ইসির অনেক কর্মীকে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। তদন্ত রিপোর্ট আসলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। রিপোর্ট পাওয়ার পরে এ আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ জানানো হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর যতগুলো নির্বাচন করেছি সবগুলো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা আরও জানেন যে আমরা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলাম যেন কেউ অবৈধ ভোট দিলে আমরা দেখতে পাই।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিসিটিভি স্থাপনের ফলে এই অপরাধ একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। তারই আলোকে এবং গাইবান্ধা- ৫ আসনের উপ-নির্বাচনের গুরুত্বের কারণে এখানেও ইভিএমে ভোটগ্রহণ ও ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গতকাল সকাল ৮টায় যথারীতি ভোট শুরু হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, আগারগাঁওয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে আমিসহ অন্য কমিশনাররা, দায়িত্ব পালনকারী সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কারিগরি সহায়তাকারী এবং মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটারদের কন্ট্রোল ইউনিটে আঙুলের ছাপ দেওয়ার পরপরই এজেন্টরা গোপন ভোটকক্ষে প্রবেশ করে ভোটারকে ভোট দিতে সুযোগ না দিয়ে নিজেই ভোট দিচ্ছেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ একই কাজ করছেন। তখন কমিশন থেকে ফোন দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারদের ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তখন ওই তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার নির্দেশনা কমিশন থেকে দেয়া হয়।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এরপর একে একে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৫০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের অবস্থা একই রকম দেখা যায়। এরই মধ্যে রিটার্নিং অফিসার একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন। আমি এবং বেগম রাশেদা সুলতানা রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলি। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও সিসিটিভি দেখার সময় পেলে দেখা যেত যে ওই কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা। কমিশন মনে করে যে এ ধরনের একটি আইনবহির্ভূত ভোটগ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাহলে কিভাবে সুষ্ঠু হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা এখনো দেরি আছে। আমরা এর আগে কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবো। তবে দলগুলোর সহমত হওয়া দরকার। সহিংসতা পূর্ণ আচরণ বন্ধ করা দরকার।

এসময় জেতার জন্য মরিয়া প্রয়াস এবং চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান সিইসি।

এর আগে বুধবার ভোটকেন্দ্রে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার আসনের উপনির্বাচন বুধবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে কয়েকঘণ্টা ভোট না চলতেই ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরো ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102