সাজ্জাদুল হাসান:কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আজও কৃষি এক অতি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত। কৃষি খাত বাংলাদেশের ১৬.৫ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধান করা ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালেরও জোগান দেয়। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের ১৩.০২ ভাগ আসে কৃষি থেকে এবং এ খাতে শতকরা ৪০.৬ ভাগ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রায় মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে শুরুতেই অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে কৃষি ক্ষেত্রে। এ উপলব্ধি থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কৃষিনীতিকে পুরোপুরিভাবে কৃষকবান্ধব করে সাজিয়ে ছিলেন।স্বাধীনতা উত্তোর বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অক্সফাম, বিশ্বব্যাংক, ইউএসএইড, জাতিসংঘসহ অন্য বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা করেছিলেন যে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাবে, দেখা দেবে দুর্ভিক্ষ। তাদের যুক্তি ছিল পাকিস্তানীদের অভিযানের কারণে বহু কৃষক ফসল বুনতে পারেনি এবং অনেকে গ্রামচ্যুত কিংবা দেশান্তরী হওয়ার কারণে ফসল কর্তন করতে পারেনি। এছাড়া বীজ, সারসহ অন্যান্য উপকরণও সময় মতো বণ্টিত হয়নি বাজার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে (সূত্র : কৃষি ও কৃষকের বঙ্গবন্ধু ড. সামছুল আলম, পৃঃ ৩৩) । পর্যবেক্ষণগুলো অসত্য ছিল না। তবে উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে দুর্ভিক্ষ হয়নি শুধুমাত্র জাতির পিতারই দূরদর্শিতা ও সময়োচিত কৃষি উন্নয়নের পদক্ষেপের কারণে। তাই দেশের প্রথম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী-এডিপির বড় অংশই ছিল এই খাতের উন্নয়নে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে ৫০১ কোটি টাকার মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেন। সরকার গঠনের পরপরই কৃষিকে অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দেয়াসহ স্বল্প মেয়াদে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা ছাড়াও কৃষিঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও খাসজমি বিতরণ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করেন
বঙ্গবন্ধুর সরকার কৃষিকে আধুনিক ও বহুমুখী করা এবং এ খাতের উন্নয়নের জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃষি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা রহিত করা, গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের ন্যূনতম ন্যায্যমূল্য বেঁধে দেয়া ইত্যাদি পদক্ষেপ নেন। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন সমৃদ্ধ কৃষিই স্বনির্ভর অর্থনীতির পূর্বশর্ত। বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে আজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে, যেখানে কৃষি খাত সর্বদাই প্রাধান্য পাচ্ছে।১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০ লাখ টন। তাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা। আর সে লক্ষ্যেই তিনি বেশ কিছু কৃষিবান্ধব, যুগান্তকারী কার্যক্রম হাতে নেন। যেমন সার ও কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ, কৃষির উপকরণ সহজলভ্যকরণ, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও যুগোপযোগীকরণ, সরকারী ব্যবস্থাপনায় বীজ ও খাদ্য-শস্যের মজুদকরণ ইত্যাদি। ফলে, পরবর্তী পাঁচ বছরে উন্নয়ন-অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত হয় চমকপ্রদ সাফল্য। প্রথমবারের মতো দেশ খাদ্যে নির্ভরশীলতা অর্জন করে। কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘সেরেস’ পদকে ভূষিত হন।২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৬ লাখ টন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ অনুযায়ী ‘রূপকল্প ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়। পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে। প্রথম ক্যাবিনেট সভায় সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৯০ টাকার ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি)-এর মূল্য কেজি প্রতি ২২ টাকা ও ৭০ টাকার মিউরেট অব পটাস (এমওপি)-এর মূল্য কেজি প্রতি ১৫ টাকায় নামিয়ে এনে সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেন। এ ছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, ১০ টাকায় কৃষকের জন্য ব্যাংক হিসাব চালুকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।বর্তমান সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হলো কৃষি গবেষণাকে অগ্রাধিকার প্রদান। যার ফলে প্রতিটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ল্যাব উন্নয়নসহ নানামুখী গবেষণা পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ২০০৮-০৯ সালে মোট খাদ্যশস্যের (চাল, গম, ভুট্টা) উৎপাদন যেখানে ছিল ৩২৮.৯৫ লাখ টন, তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়ায় ৪৩২.১৫ লাখ টন। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নার্সভুক্ত (ঘঅজঝ) গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ফসলের ৬৩১ উচ্চফলনশীল নতুন জাত এবং ৯৪০ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ২০০৮-৯ অর্থবছর থেকে অদ্যাবধি ব্রি (ইজজও) কর্তৃক ধানের ৫৫ জাত, বিএআরআই (ইঅজও) কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ২৫৮ জাত, বিজেআরআই (ইঔজও) কর্তৃক পাটের ১৫ জাত, বিএসআরআই (ইঝজও) কর্তৃক ইক্ষুর ৯ জাত ও সুগার বিট, তাল ও স্টেভিয়ার ৪ জাত, তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক তুলার ১০ জাত এবং বিআইএনএ (ইওঘঅ) কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের ৬৮ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অর্গানিজম) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিটি বেগুনের ৪ জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং গোল্ডেন রাইস ও বিটি তুলার জাত উদ্ভাবনের কাজ চলমান রয়েছে। দেশী ও তোষা পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কারসহ পাট ও পাটজাতীয় আঁশ ফসলের ৫৪ উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও অধিকতর লাভজনক করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৮৬৮ কম্বাইন হারভেস্টার, সিডার, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে (সূত্র : কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন)। যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে শেখ হাসিনার সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দেশের হাওড় ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কৃষকদের জন্য ৭০% এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০% ভর্তুকি প্রদান করে যাচ্ছেন। এই খাতে এই পর্যন্ত প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০১৯ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে বিনাসুদে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুবিধা রয়েছে।সারাদেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল/ই-কৃষি প্রবর্তনের ধারাকে জোরদার করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশে মোট ৪৯৯ কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), ১৬১২৩ কৃষি কল সেন্টার, ইউটিউব, কৃষির তথ্য বাতায়ন ও কৃষক বন্ধু ফোন ৩৩৩১, ই-বুক, অনলাইন সার সুপারিশ, ই-সেচসেবা, কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, কমিউনিটি রেডিওসহ বিভিন্ন মোবাইল এবং ডবনঅঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হ ও ঝড়ভঃধিৎব ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়েছে । এ ছাড়া বীজতুলা বিক্রয়েই-সেবা, নগর কৃষি, ডিজিটাল কৃষি ক্যালেন্ডার বাছাই করে দেশব্যাপী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।যে কোন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও এগিয়ে নেয়ার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা প্রয়োজন। আর সেই জন্যই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেখ হাসিনা সরকার ১৯৯৯, ২০১৩ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে কৃষি নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৯ চূড়ান্ত করণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে । এ ছাড়া সরকার কৃষি উন্নয়নকে গতিশীল করার জন্য ক্ষুদ্র সেচ নীতিমালা, জৈব কৃষি নীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যকরী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কৃষির উৎপাদিকা বাড়িয়ে ব্যাপক রূপান্তর করতে না পারলে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রাগুলো’ অর্জন সম্ভব নয়। দারিদ্র্য দূর করতে না পারলে কোন অর্জনই টেকসই হতে পারে না। কৃষির অগ্রগতি আর রূপান্তরে দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি কমে আসে। কৃষি শ্রমিকদের মাথা পিছু দেশজ আয় বাড়ানো দারিদ্র্য কমিয়ে আনার অন্যতম উপায়। কৃষি এখনও নিম্ন উৎপাদিকা ও নিম্ন আয়ের খাত, যেখানে এখনও ৪২ শতাংশ শ্রমশক্তি নিয়োজিত। কৃষিতে শ্রমশক্তির বিশাল অংশ নিয়োজিত থাকলেও দেশজ আয়ে কৃষির অবদান এখন ১৪.১ শতাংশ (সূত্র : ২০১৮-১৯ প্রক্ষেপণ, বিবিএস)। উৎপাদিকা বাড়িয়ে কৃষি থেকে শ্রমশক্তি সেবা ও শিল্প খাতে স্থানান্তর অপরিহার্য।আনন্দের সংবাদ, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নকালেই বাংলাদেশ দুটি স্মরণীয় সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রথমত, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীকরণে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মাথাপিছু আয়ে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। এখন আমাদের উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের দ্বিতীয় যাত্রাপথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। সেই যাত্রাপথের দিক নির্দেশনা রয়েছে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এর মধ্যে। উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে আমাদের মাথা পিছু আয় হতে হবে ৪ হাজার ১২৫ মার্কিন ডলার, যা এ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ বাস্তবায়ন কালেই অর্জিত হবে। দ্বিতীয় ঐতিহাসিক সাফল্য হচ্ছে, জাতিসংঘের শ্রেণীকরণে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে সফল হয়েছে। সম্প্রতি ২য় ধাপেও বাংলাদেশ আবার তিনটি সূচকেই গত ১০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতির ধারায় আরও ভাল করেছে। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ঘোষিত হবে, যা ঘটবে ২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নকালে। এসব সাফল্যের পথ বেয়ে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশ হওয়ার পথনক্সা ‘রূপকল্প ২০৪১’ প্রণয়ন করছে। ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর ভিত্তিতেই প্রণীত হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া অনুপ্রেরণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে ঢেলে সাজিয়েছেন। উন্নয়নে সবদিক থেকে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো সবার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্বপ্নের উন্নত দেশের সম্মান। সেক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্যের বহুমুখীকরণ এবং খোরপোষ (ঝঁনংরংঃধহপব ঋধৎসরহম) কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর প্রয়োজন। বাণিজ্যিক কৃষির সুফল লাভের জন্য প্রয়োজন ছোট-বড় কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিস্তার, কৃষিপণ্য রফতানির অধিকতর সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং সুসংগঠিতভাবে দেশীয় বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা, কৃষি বিপণন অধিদফতরের কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং কৃষি বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং শক্তিশালীকরণ। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দৃঢ় প্রত্যয় এবং সফল নেতৃত্বে সরকারের দৃপ্ত পদক্ষেপের ফলে সে লক্ষ্যে নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যাব।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতি সমিতি ও সাবেক সিনিয়র সচিব,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়