

রিয়াজুল হক: আমাদের দেশের কিছু মানুষ বৈধ কিংবা অবৈধভাবে অনেক অর্থবিত্তের মালিক হবার পর আরো উন্নততর জীবনের আশায় বিদেশে চলে যায়।
এই যে বিপুল টাকা পয়সার মালিক হয়, সেটা কিন্তু এই দেশ থেকেই তারা উপার্জন করে। সেই অর্থ বিদেশে পাঠায়। উদ্দেশ্য একটাই, আরো ভালো জীবন যাপন করতে হবে।
এই দেশে যারা হোমরা-চোমরা হয়ে চলাফেরা করে, নাম-যশ-খ্যাতি পায়, দশ জনের একজন হয়, তারা কিন্তু আবার অন্য দেশে আমজনতা। বর্ণ বৈষম্যেরও শিকার হয়ে থাকেন। সেই উপলব্ধি তাদের মধ্যে অবশ্য আসে, তবে বেশ পরে।
এই দেশের কয়েকজন সফল মানুষ, যারা অন্য দেশে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে নিয়েছেন, পরবর্তীতে তাদেরই কেউ কেউ মুখ ফুটে বলে ফেলেছেন, ‘দেশেই ভালো ছিলাম’।
যাই হোক, বিষয়টা অনেকখানি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অনুশোচনার মত, যা তিনি বাংলা ভাষার প্রথম সনেট ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার শুরুতে তুলে ধরেছেন-
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিণু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি! অনিদ্রায়, অনাহারে সঁপি কায়, মনঃ, মজিনু বিফল তপে অবরণ্যে বরি; কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন!
আবার এদেশের অনেক সফল মানুষ আছেন, যারা এদেশে জন্মেছেন এবং এদেশেই মরতে চান। ঠিক যেন কবি সুফিয়া কামালের কবিতার মত তাদের আত্মার আকুতি, ‘জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে মরি যেন এই দেশে’।
লেখক: যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক