

ইউকেবিডি ডেস্ক: করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বজুড়ে একপ্রকার তাণ্ডব চালাচ্ছে। এটির ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। চার সপ্তাহে ৮৯টি দেশে ছড়িয়েছে। বড়দিনের ছুটিতে ওমিক্রনের সংক্রমণ যাতে অতিমাত্রায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য অনেক দেশ নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দেশে দেশে নানা বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। বড়দিনের ছুটিতে ওমিক্রনের সংক্রমণ অতিমাত্রায় ছড়ানো ঠেকাতে অনেক দেশ কঠোর লকডাউনের দিকে যাচ্ছে। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বড়দিনের আনন্দ ম্লান হতে বসেছে। খবর বিবিসি, এপি, রয়টার্স, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএনের।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন সংক্রমণ হুহু করে বাড়ছে। এমনকি শিশুরাও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে টানা তিন দিন রেকর্ড সংক্রমণের পর শনিবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন ৯০ হাজার ৪১৮ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়। এর আগে শুক্রবার রেকর্ড ৯২ হাজার রোগী শনাক্ত হয়। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়াকে ‘বড় ঘটনা’ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। ইউরোপের দেশ ফ্রান্স ও জার্মানি ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ওমিক্রন ধরনের বিস্তার ঠেকাতে জার্মানি ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হলেও যেসব জার্মান নাগরিক ব্রিটেনে আছেন, তারা নিজ দেশে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে জার্মান নাগরিকদের করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে এবং জার্মানিতে পৌঁছানোর পর দুই সপ্তাহ তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তবে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের এসবের প্রয়োজন নেই। এছাড়া ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নরওয়ে ও লেবাননকে জার্মানি উচ্চঝুঁকির তালিকায় রেখেছে এবং দেশটি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফ্রান্সে নববর্ষ উদ্যাপনে কনসার্ট ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনগণকে বড় জমায়েত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁ ও দূরপাল্লার পণপরিবহণে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকার সব ডোজ নেওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস সরকার বড় বড় শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টে বলেছেন, ‘এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’ লকডাউনের আওতায় নেদারল্যান্ডসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যসব পণ্যের দোকান, পানশালা, ব্যায়ামাগার, সেলুন এবং অন্যসব জনসমাগমের জায়গাগুলো জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। নেদারল্যান্ডসের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের তথ্য অনুযায়ী, মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে ২৯ লাখের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মারা গেছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। বর্তমানে দেশটিতে ওমিক্রন দ্রুত ছড়াতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। নতুন করে ৮৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই ২২ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে গুরুতর অসুস্থতা ঠেকাতে কার্যকর বুস্টার ডোজ। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে গতিও বাড়িয়েছে।
শীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে : যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, বড়দিনের ছুটিতে সাধারণ মানুষ ভ্রমণে বের হলে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়তে পারে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি। বিশ্বজুড়ে এ ধরন একপ্রকার তাণ্ডব চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ওমিক্রন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়াতে শুরু করলে তা দেশজুড়ে বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। দেশটির হাসপাতালগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়বে। ফাউসি বলেন, জনসাধারণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া যারা এখনো টিকা ও বুস্টার ডোজ নেননি, তাদের এসব ডোজ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাউসি বলেছিলেন, যারা টিকা নেননি, তারা সংক্রমিত ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিন দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে ওমিক্রন সংক্রমণ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি তিন দিনে ওমিক্রন সংক্রমণের হার দ্বিগুণ হচ্ছে। উচ্চমাত্রার ইমিউনিটি রয়েছে-এমন দেশগুলোয় এ ধরনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেছে, করোনার ডেল্টা ধরনের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সংক্রামক ওমিক্রন। আয়ারল্যান্ডে ওমিক্রন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। তাই শিশুদের নিরাপত্তায় ৫ থেকে ১১ বছরের সবাইকে করোনার টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ ঘোষণায় অভিভাবকদের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। ২৪ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রনের অস্তিত্ব চিহ্নিত করেন। পরবর্তী সময়ে বতসোয়ানা, হংকং ও ইসরাইলে এ ধরনের খোঁজ পাওয়া যায়। এরপর এটি বিশ্বের ৮৯টি দেশে ছড়িয়েছে।