

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর: যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে রোগীর চাপ। একদিকে করোনার টিকা অন্য দিকে করোনা টেস্ট এর মাঝেও বাড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগ, ডেঙ্গু ছাড়াও নানান অসুস্থতায় প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। এ অবস্থায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
করোনার টিকা ও টেস্ট করাতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখেই রোগীরা দীর্ঘ লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি করোনা গণটিকার জন্য ও উপজেলা পর্যায়ে করোনার টেস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারণে জেলা পর্যায়ে রোগীর চাপ বেড়েছে।
এদিকে হসপিটাল গেট হতে জরুরী বিভাগ পর্যন্ত সবসময় জটলা লেগেই থাকে।যত্রতত্র খালি এ্যাম্বুলেন্স, রিক্সা, ইজিবাইক, মটর সাইকেল সহ ভিআইপিদের প্রাইভেট কার ঢুকছে এবং যেখানে সেখানে পার্কিং করার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে সদর হসপিটালের রোগীদের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এ এস আই শাহীন বলেন, আমি ও আমার পুলিশ সদস্যরা হসপিটালের শৃঙ্খলার পাশাপাশি যানজট নিরসনের জন্য হসপিটাল কতৃপক্ষের পাশাপাশি কাজ করছি। আমরা যখন গেটের শৃঙ্খলার জন্য মানুষকে বোঝাই তখন তারা শোনে এবং সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পার হয়। আমাদের সামনে তারা আইন মানে। তবে আমরা সরে গেলে আগের মতোই তারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে রাস্তা পার হয়। মানুষের সচেতন হওয়া দরকার। সবাই সচেতন হলে হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরতে সময় লাগবে না।
সদর হসপিটাল গেটে দায়িত্বে থাকা হসপিটাল কতৃপক্ষের সদস্য মনিরুল বলেন, হসপিটাল গেটে দুই সিফ্টে ৬জন ডিউটি দেওয়ার কথা থাকলেও রাতে দুইজন ও দিনে দুইজন দায়িত্ব পালন করছি, হসপিটাল গেটে যানজট যাতে না হয় তারজন্য সর্বদা চেষ্টা করছি, খালি রিক্সা ইজিবাইক চালকদের অনুরোধ করছি ভিতরে প্রবেশ না করার জন্য। তারপরও খালি এ্যাম্বুলেন্স, মটর সাইকেল, রিক্সা, ইজিবাই ইত্যাদি যানবাহন যেখানে সেখানে রাস্তার উপর রাখাতে বিশৃঙ্খলা ও যানজট লেগে থাকছে। রোগীবাহী গাড়ি থমকে আছে হসপিটাল গেটে। পথচারীরাও নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র পার হচ্ছে রাস্তা। তিনি আরও বলেন এখানে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বা লোকবল বাড়িয়ে দিলে এ সমস্যা সমাধান হবে।
সদর হসপিটাল মোড় হতে হসপিটাল গেট পর্যন্ত কমিউনিটি পুলিশ সদস্য শেখ মোঃ টিপু সুলতান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আমরা সদর হসপিটাল গেট সংলগ্ন এই রোডে দুইজন দায়িত্ব পালন করছি, চেষ্টা করছি যাতে এই সড়কে যানজট না হয়। রাস্তার উপর খালি এ্যাম্বুলেন্স ঘন্টার পর ঘন্টা ফেলে রাখা ও রিপ্রেজেনটিভ বা মেডিকেল প্রোমোশন অফিসার (MPO) দের মটর সাইকেল রাস্তার উপর ফেলে রেখে হারিয়ে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা, শতবার বলা সত্বেও তারা প্রতিনিয়তই এ কাজ করেই চলেছে।
এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আক্তারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এই সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত সমাধানের সর্বাত্মক কার্যকর ভূমিকা রাখবে হসপিটাল কতৃপক্ষ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে এখানে মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। বর্তমানে হাসপাতালে মোট আসনের দেড়গুণ রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু সেই তুলনায় জনবল নেই। সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে অনিয়ম রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
যশোর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনী খান পলাশ বলেন, যানজটের অন্যতম একটি কারণ চালকদের বেপরোয়া মনোভাব। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামার পর তাদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রতিযোগিতা চলে। নিজেদের অপরাধকে অপরাধই মনে করেন না তারা। খেয়াল খুশিমতো গাড়ি চালানোর কারণে ও অবৈধ পার্কিং যানজটের অন্যতম কারণ। বিষয়টি নিয়ে আলাপআলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন নব নির্বাচিত এ মেয়র।