

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, সংবিধান ও তত্বাবধায়ক সরকার বুঝি না, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিতে চাই। যাতে নির্বাচনে সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
আজ রোববার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তে ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী জি এম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তাদের স্বাগত জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জি এম কাদের আরও বলেন, ‘আমরা ফর্মুলা দিতে পারি, সকল দল থেকে ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচন ব্যবস্থা অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে ইলেকশন নয় সিলেকশন হতে পারে। বর্তমান সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা তছনছ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধংস করেছে। তারা একদলীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েম করতে চাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পেশাদার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে আর নির্বাচন হয় না, সিলেকশন করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা ধংস করে বর্তমান সরকার একনায়কতন্ত্র চালু করেছে। আগামী নির্বাচনেও যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আর রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল থাকবে না। দেশ এক নেতার অধিনে চলে যাবে, এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করা হবে।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকার বলেছে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সরকার বলছে তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু সরকার ছাড়া সকল রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষ বলছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে বিশ্ববাসী দেখেছে দলীয় সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না।
ঢাকা ১৭ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, উপনির্বাচনে নির্লজ্জভাবে এক প্রার্থীকে মেরে, এজেন্টদের বের করে দিয়ে নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়েছে। সারাবিশ্বের কাছে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কেমন হবে। ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলার মুখ সরকারের নেই।
জি এম কাদের আরও বলেন, ‘দেশের মালিক সাধারণ জনগণ। তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু মানুষ যদি সরকারের ভয়ে কথা বলতে না পারে, সেই সরকার জনগণের সরকার নয়। আমরা জনগণের ভোটে জনগণের সরকার চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা চাই। তাই জনগণের পাশে আমাদের থাকতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমরা সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকব।’
টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুস সালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক, সৈয়দ শামসুদ্দোহা জুবায়ের, আব্দুল আজিজ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক, গোলাম রাব্বানী, মো. খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সম্পাদকমণ্ডলীর হেলাল উদ্দিন, এমএ রাজ্জাক খান, ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদকমণ্ডলীর মাহমুদ আলম, সমরেশ মণ্ডল মানিক, কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ আজহার, আব্দুল কাদের কদর, রাশেদ নিজাম, আবু মুসা সরকার, শফিকুল ইসলাম তপন, সোহেল রহমান।
রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে কালীহাতি উপজেলার শরীফ সিদ্দিকী, আব্দুর রহিম বাদশাহ, ইকবাল হোসেন রিপন, মো. রমজান আলী, স্বপন সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।
নিউজ /এমএসএম