

স্টাফ রিপোর্টার, নাটোর: বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, পাট দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।যা বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর অর্থ আয় করে। এ জন্যই পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়।
ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মায়ানমার সহ বিভিন্ন দেশে পাট উৎপাদন হলেও পৃথিবীর ৪(চার)ভাগের ৩(তিন)ভাগ পাটই বাংলাদেশে জন্মে। যার ফলে বহির্বিশ্বে ও বাংলাদেশের উৎপাদিত পাট দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা।কিন্ত নাটোরের লালপুরে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতের অভাবে ডোবা বা জলাশয়গুলো পানিতে ভরাট না হওয়ায় পাট জাগ দিতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে।
ফলন ভালো এবং বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও সময়মত পানি না পাওয়ায় পাট জাগ দিতে পারছেন না তারা।এ দুশ্চিন্তায় কৃষকদের মনে ঈদের আনন্দও নেই।

সূত্রে জানা গেছে,এবার লালপুর উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর ১১,৬১০ একর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এবার প্রায় দেড়গুণ বেশি আবাদ হয়েছে।কিন্তু ভারী বর্ষণ না থাকায় অনেক কৃষক পাট কাটতে চাচ্ছেন না।আবার অনেকে পাট কেটেও জমিতে ছিটিয়ে বা স্তুপ করে রেখেছেন।কেউ কেউ শ্যালো মেশিন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করলেও তাতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নিশ্চিত লাভ জেনেও পানির অভাবে কৃষকের স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে।এমনিতেই পাট চাষে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়।পঁচা পানিতে আঁশ এড়ানো শ্রমিকদের মজুরীও বেশি।লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের পাটচাষী মোজাম্মেল ও মহারাজপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান,এবার বৃষ্টিপাত কম, পাট জাগ দিতে পারছিনা। তাছাড়া নদীতে পাট জাগ দিতে গেলে আনা নেওয়ার খরচ উঠবে না।

আশপাশে শ্যালো মোটরের ব্যবস্থা না থাকায় সেচের পানিও পাচ্ছিনা।দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পাট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার ও দেলোয়ার জানান,বর্তমান বাজারে পাটের সরবরাহ খুবই কম। নতুন পাট ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।লালপুর উপজেলার উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা দূর্জয় হোসেন বলেন,কিছুদিন আগে বৃষ্টিপাতের কারনে লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীসহ ডাঙার বিভিন্ন খালে পানি ভরাট হওয়ায় কৃষকরা তাদের সোনালী আঁশ পাট কাটতে শুরু করেন। কিন্তু এরপর আর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরায় পানি শুকিয়ে যায়। ফলে পাটের বাম্পার ফলন হলেও পানি সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে,কাল পরশুর মধ্যেই টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত হবে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত সোনালী আঁশ(পাট)এর প্রায় ৫১% পাটকলে ব্যাবহৃত হয়,৪৪%কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করা হয় এবং বাকী ৫%পাট গৃহস্থালি ও কুটির শিল্পে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।অর্থকরী ফসল হিসেবে পাট চাষের প্রতি বেশি বেশি নজর দিতে হবে। পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারে আমরা সকলেই যদি উৎসাহিত হই এবং ব্যবহার বাড়াই তাহলে বাংলাদেশের স্বর্ণ সূত্র পাট ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব সেই সাথে পাট পাতা পচা মাটি হয়ে উঠবে উর্বর। আর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দ্রব্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করবেনা আমরা ফিরে পাব প্রাকৃতিক ভারসাম্য।পানি সংকটের এই চিত্র শুধু নাটোরের লালপুর উপজেলাতেই নয়, বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া, নাটোর সদর উপজেলাতেও পানি সংকটে পাট জাগ দিতে না পারায় কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। পানি সেচ অথবা অনেক দূরের জলাশয় ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতে খরচ বেশি পড়ছে। এতে পাট চাষে এ বছর লোকসান হবে বলে মনে করছেন চাষীরা।