

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেমা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে একাধিক ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি।
শনিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাটের স্বাস্থ্যসেবার দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাপতি পদে পাদাধিকার বলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সঠিকভাবে কাজ করেন না বলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হচ্ছে না— দুই দিন আগে সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্যটি করেন। এ কথাটার কারণে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। যাদের এভাবে সভাপতি করা হয় তাদের কোনো সুনিদির্ষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় না। তারা নিজ উদ্যোগ হাসপাতালের সমস্যা নির্ধারণ করেন এবং সমাধানের প্রচেষ্টা করেন। স্বাস্থ্যসেবা কমিটিকে কোনো ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। নিয়ম, আইন বা অর্থ বরাদ্দ এমন কিছুই থাকে না যাতে করে তারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন। প্রায় সময় সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ে। ফলে, তাদের প্রধান কাজ হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরাসরি মন্ত্রীকে খুশি করে কাজটি বাস্তবায়ন করা। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই সহযোগিতা পাওয়া যায় না।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি কথা বলার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৬-৭ বার ফোন করেছি। কিন্তু টেলিফোন ধরেন না। ওনার বাবা আমাদের দল করতেন, ওনার বাবার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওনার কাছ থেকে এরকম ব্যবহার পেয়েছি। পত্র দিলে কোন উত্তর বা সমাধান মেলে না। সংসদ সদস্যরা অনেকেই তখন বাধ্য হয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বিষয়গুলি সংসদে তুলে ধরেন। যদিও এরপর সমাধান তেমন একটা পাওয়া যায় না।
রংপুর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিনের পানি বিশুদ্ধকরণ অংশটি নষ্ট হয়ে প্রায় ৮ মাস ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিন অকেজো ছিল বলে জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ৬ লাখ টাকা দান উঠিয়ে তা মেরামত করা হয়। এখনও ২৫ টির মধ্যে ১০টি কাজ করছে না।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালে ৩টি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মধ্যে ২টি নষ্ট, ইসিজি মেশিন আছে ৪টি, তার মধ্যে নষ্ট ২টি, ডায়াথার্মি মেশিন ৬টির মধ্যে নষ্ট ৫টি, ওটি লাইট ২টির মধ্যে নষ্ট ১টি, ডেলিভারি টেবিল ২টির ১টি নষ্ট, ওটি টেবিল ৬টির মধ্যে নষ্ট ৪টি, সাকার মেশিন ৫টির মধ্যে নষ্ট ৪টি। এছাড়া ১টি এনালাইজার মেশিন (সেমি অটো) ও ১টি সেন্ট্রি ফিউজ থাকলেও দুটিই নষ্ট।
জি এম কাদের বলেন, বারবার মন্ত্রণালয়ে জানিয়েও ফল হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় দুই তিন মাস আগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সচিব মহোদয়কে মেরামতের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কোনো কাজ হয়নি।