

বাংলাদেশের ৫১তম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাবান্ধা এবং ফুলবাড়ি আন্তর্জাতিক সীমান্তে চেকপোস্ট নোম্যানস ল্যান্ডে বিজিবি- বিএসএফের যৌথ রিট্রিট সিরিমনি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৬ টায় ১৮ বিজিবির পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট ও ১৭৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের ফুলবাড়ি আইসিপিতে এই যৌথ রিট্রিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বে প্রধান করেন বিজিবির উত্তর পশ্চিম রিজিয়ন রংপুরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ বি এম নওরোজ (বিএসপি, পিএসসি) ও ভারতের পক্ষে বিএসএফের নর্থ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার আইজি শ্রী অজয় সিং। উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁওয়ের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সোহরাব হোসেন, লেঃ কর্ণেল সৈয়দ সালাহ উদ্দীন,
(পিএসসি), পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মো; মাহফুজুল হক, মেজর মো; রুহুল আসাদ
(বিজিবিএম, পিএসসি) ও শিলিগুড়ি সেক্টর বিএসফের ডিআইজি শ্রী পরশু রাম, ১৭৬ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট শ্রী হরিশ চন্দ্রসহ বিজিবি-বিএসএফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সিরাজুল হুদা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা, মডেল থানা ওসি আবু সায়েম মিয়া প্রমুখ।আরো উপস্থিত ছিলেন ভারত- বাংলাদেশের গনমাধ্যম কর্মীসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক, ব্যক্তিবর্গ।
ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন হিসেবে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার মিষ্টি সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি, উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুর ও আইজি বিএসএফ, নর্থ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার বিজিবি ও বিএসএফ কন্টিজেন্টের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় বিজিবি-বিএসএফ প্যারেড কন্টিনজেন্ট চমকপ্রদ ও মনোমুগ্ধকর প্যারেড প্রদর্শন করেন। বিজিবি-বিএসএফের চমকপ্রদ ও মনোমুগ্ধকর প্যারেড উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান।

বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ও বিএসএফ ফ্রন্টিয়ার কমান্ডার অভিমত প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গ বন্ধু মত ত্যাগী মহান নেতা কোথাও নেই। এ ধরণের উদৌগ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও মানুষকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।
রিট্রিট সিরিমনি’ প্যারেডে বিজিবি-বিএসএফ এর কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ উভয় দেশের সর্বস্তরের জনগণ দর্শনার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের মধ্যে যে বন্ধুপ্রতিম ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়েছিলো সেই ভাতৃত্ববোধ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এ ‘রিট্রিট সিরিমনি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নোম্যান্সল্যান্ডে কুচকাওয়াজ, জাতীয় পতাকা নামানো, মিষ্টি ও উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয় বিএসএফ কর্মকর্তাদের হাতে।