

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ঘুঙ্গিয়াজুরি হাওরের আদিত্যপুর গ্রামে ছেলের সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে একই উপজেলায় দুই পক্ষের অপর সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদ মিয়া (৫০) ওই গ্রামের মৃত দেওয়ান উল্লাহর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দিনগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় আদিত্যপুর গ্রামের টেনু মিয়ার ছেলে সজিব মিয়া (১৮) ও একই গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে রোকন মিয়ার (১৬) মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জয় পরাজয় নিয়ে বাগবিতন্ডতা হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। এর জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে টেনু মিয়া ও তার লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে শহিদ মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এসময় গ্রামের লোকজন বিষয়টি সমাধানের কথা বলে দু’পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। কিছু সময় পর শহিদ মিয়া আদিত্যপুর হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন টেনু মিয়ার লোকজন। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনা ফারহীন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) প্রজিত কুমার দাশ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছেলের সঙ্গে খেলা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় কাউকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান চলছে।
অপরদিকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ১০ জনকে হবিগঞ্জ এবং ১৫ জনকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মানিকপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর রউফের সঙ্গে একই গ্রামের আশিক মিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে আজ সকালে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় উভয় পক্ষই দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এক ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে বাহুবল থানা পুলিশ মানিকপুর গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রকিব জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।