বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতু উদ্ভোধন: আবারো ইতিহাসের স্বাক্ষী হলাম।

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২
  • ২৮৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মকবুল তালুকদারঃ সম্রাট শাহজাহান ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে তাজমহল তৈরী করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।আর দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্ন পদ্মা সেতু নির্মান করে আরো একটি ইতিহাস সৃষ্টি করে গড়লেন নুতন বিশ্ব রেকর্ড।দেশী-বিদেশী চক্রান্তের বাইরে খরস্রোতা প্রমত্তা পদ্মা নদীতে ঐতিহাসিক স্হাপত্য ও ষ্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে মাটির স্তরের জটিলতাকে শাসনের মাধ্যমে ৪২ টি পিলারের উপর দ্বিতল সেতু নির্মান সত্যিই বিস্ময়কর এবং নজির বিহীন।এতেই পদ্মা সেতু নিন্মোক্ত তিনটি বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী হয়; একটি হল- পদ্মা সেতুর পাইলিং।পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো যা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং হয়নি। এ ছাড়া পদ্মা সেতুতে পাইলিং ও খুঁটির কিছু অংশে অতি মিহি (মাইক্রোফাইন) সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের অতি মিহি সিমেন্ট বিশ্বের কোথায়ও কোন সেতুতে ব্যবহার করা হয় নাই বা প্রয়োজন পড়ে নাই।

দ্বিতীয় রেকর্ড হল, ভূমিকম্প থেকে পদ্মা সেতুকে টিকাতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’ লাগানো হয়েছে। এই বিয়ারিংয়ের সক্ষমতা ১০ হাজার টন। যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোন সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। উক্ত বিয়ারিং লাগানোর ফলে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকবে পদ্মা সেতু।

তৃতীয় রেকর্ড হল, নদীশাসন।এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বিশালএলাকা জুড়ে নদী শাসন করা হয়নি(প্রায় ১৪ কিলোমিটার)।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এই সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। পদ্মা সেতু নির্মানের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অর্থ যোগান ও দেশী-বিদেশী চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ জাতির জনকের কন্যা জননেএী শেখ হাসিনার অসীম মনোবল, দৃড়তা ও দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে তাঁকে একচুল পর্যন্ত সরাতে পারেনি। তিনি ছিলেন অনড় ও দৃড় প্রত্যয়ী। তিনি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান করে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে চুন কালি মেখে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

অত:পর এলো তিন তিনটি বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের সেই শুভ দিন ২৫ জুন’২২। প্রসংগত উল্লেখ্য যে, পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনীতে সরব উপস্হিতির ইচ্ছা ছিল বিধায় আমি ২৩ জুন’২২ তারিখ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন পএ গ্রহন করি( যার ক্রমিক নং৫৬৩২)। নির্ধারিত দিনে স্নেহাস্পদ ছোট ভাই মাননীয় স্বাস্হ্য সচিব মহোদয়ের গাড়ীতে অনুষ্ঠান স্হল মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সভাস্হলে (নিরাপত্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ) প্রবেশ করি। সভাস্হলে উচ্চ পদস্হ কয়েক জন কর্মকর্তা ও প্রথিত যশা কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহন করি।আমার আসন থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ছিল বিধায় আমার জানা মতে আমেরিকা থেকে আগত তেমন কাউকে দেখতে পাই নাই।
অবশেষে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা মন্চে আসন গ্রহন করলেন এবং হাস্যোজ্জল ভাবে সালাম বিনিময় শেষে জাতির পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দৃড় কন্ঠে বলতে লাগলেন “অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহু- কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে আছে। এই সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহা কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়? এ সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক।এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা, সহনশীলতা আর জেদ”।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃড় প্রত্যয়ী বক্তব্য শ্রবন করে আমার প্রতিটি শিরা উপশিরায় প্রবাহিত রক্তের উচ্ছলতা অনুভব করছিলাম। আর শুধুই ভাবছিলাম হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যদি আজ বেঁচে থাকতেন; তবে কতই না খুশী হতেন এই দেখে যে তাঁর কন্যা স্বাধীনতার স্বপ্ন স্বাদ আজ প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন।

এতদভিন্ন, পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে আমার সরব উপস্হিতি এবং ইতিহাসের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত,উচ্ছসিত এবং আনন্দিত। এটা আমার সারা জীবনের অহংকার হয়ে থাকবে।

প্রসংগত উল্লেখ্য, ৭ মার্চ’৭১ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর বিশ্ব সেরা ভাষন প্রদানের মুহুর্তে উপস্হিত থাকতে পেরে প্রথম বার, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দ্বিতীয় বার, ১০ জানুয়ারী’৭২ জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে উপস্হিত থাকতে পেরে তৃতীয় বার এবং সর্বশেষ ২৫ জুন’২০২২ পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনীতে উপস্হিত থেকে চতুর্থ বারের মতো ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।এটা অবশ্যই আমার অহংকার।এতদভিন্ন, মিলোনিয়াম ২০০০ উপলক্ষ্যে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেন হ্যাগেন থেকে সুইডেনের মালমো শহর পর্যন্ত বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে নির্মিত সেতুর উদ্ভোধনীতে একজন রিসার্স ফেলো হিসাবে সৌভাগ্য ক্রমে আমন্ত্রিত হয়ে দুই দেশের উচ্চ পদস্হ কর্মকর্তাদের সাথে কোপেন হ্যাগেন ও মালমোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্হিত থেকেও আমি গর্বিত হয়েছিলাম।


ব্যক্তি জীবনে আমার প্রাপ্তির পরিমান শূন্যের কোঠায় হলেও আমার দর্শন, আদর্শ এবং চিন্তার স্বপক্ষে প্রাপ্তি অনেক। এতে আমি সন্তুষ্ট উদ্বেলিত এবং আনন্দিত।কারন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে দিয়ে গেছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ। আর তাঁর কন্যা জননেএী শেখ হাসিনা ক্রমাগত ভাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন স্বাধ প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অভূতপুর্ন উন্নয়ন করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের উন্নয়শীল দেশে উন্নীত করেছেন এবং আমার বিশ্বাস আগত দিনে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থাকলে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে এবং শীগ্রই বাংলাদেশের নাম লেখাবে উন্নত দেশের তালিকায়।একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এটা আমার প্রত্যাশা।

লেখকঃ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল তালুকদার, কলামিষ্ট ও কৃষিবিদ

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102