

স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডাক্তারের চেম্বারে রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা ও টানাটানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শনিবার (২৮ মে) সিভিল সার্জন ডা. নুরুল হক ও তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিএমএ সভাপতি, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিকট প্রেরণ করা হয়। একই সাথে ফারিয়ার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও ডেকে এনে তা অবগত করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারিও দেয়া হয়।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডাক্তারের চেম্বারে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মচারীদের ছত্রছায়ায় তারা বীরদর্পে এসব করে যাচ্ছে। এ ছাড়া তাদের একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র রয়েছে। দালালদের মাধ্যমেই এসব করে থাকে তারা।
অনেক ডাক্তার জানায়, রোগীরা প্রেসক্রিপশন নেয়ার সাথে সাথেই সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থাকা ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা টানাটানি শুরু করেন। আবার অনেকেই প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে গিয়ে ছিড়েও ফেলেন। এতে করে রোগীরা পড়েন বিড়ম্বনায়। বারবার নিষেধ করার পরও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব খাটিয়ে তারা এসব করে যান। হাসপাতাল থেকে বারবার নিষেধ করার পরও এ নিষেধ মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর সিভিল সার্জন ও তত্বাবধায়ক এ চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন। তারা জানান, যারা এ আদেশ মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
এ ছাড়াও সিদ্ধান্তে সকল দালালের বিরুদ্ধে আরও বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
রোববার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা এ সকল বিষয়ে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সরেজমিনে সদর হাসপাতাল ও সকল ডাক্তারের চেম্বার, ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন এবং সকলকে সতর্ক করা হবে বলে জানা গেছে।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম