

স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর: সাংবাদিকদের পিটিয়ে চামড়া তুলে ফেলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হুমকির অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত জামালপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।
তিনি বলেছেন, জামালপুরের পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সঙ্গে যে অশোভন আচরণ করেছেন, তা আমি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছি। সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকেও বিস্তারিত শুনলাম। এ বিষয়ে আমি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।
রোববার সকালের দিকে জামালপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রতিপালিত হয় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। সেজন্য সাধারণ জনগণসহ সবার সঙ্গেই তাদের ভাষা ও ব্যবহারে মার্জিত, শোভন ও শালীন বোধ থাকা বাঞ্ছনীয়। সেবা দেয়া ছাড়া তারা কারো সঙ্গেই কোনো অশোভন আচরণ করার অধিকার রাখেন না। এটা আমার কথা নয়, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা।
এর আগে শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন পুলিশ সুপার মো. নাছির উদ্দীন আহমেদ। এমন অভিযোগে তার প্রত্যাহার চেয়ে গতকাল শনিবার থেকে আন্দোলনে নামেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।
আজ রোববার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তার কাছে ওই পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবরও স্মারকলিপি দেন সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে পুনাক মেলা সম্পর্কে অবহিত করতে সাংবাদিকদের মেলা প্রাঙ্গণে ডাকেন পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদ। তার ডাকে সাড়া দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানকে ধরে পিটিয়ে চামড়া তোলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফাঁসানোর হুমকি দেন। তারপর থেকেই আন্দোলনে নামেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।