বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

অর্থপাচার মামলা: হাইকোর্টে দিনাজপুরের যুবলীগ নেতা মিল্টনের জামিন

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ২২৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় দিনাজপুর জেলা যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনকে পাসপোর্ট জমা রাখা ও দেশত্যাগ না করার শর্তে আট সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

আসামির আগাম জামিন আবেদন শুনানি নিয়ে রোববার (৩ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

‘ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুদক যদি এভাবে ছোটে তাহলে দেশের উন্নয়ন কীভাবে হবে’- প্রশ্ন রেখে আদালত বলেন, ‘যারা দেশের বাইরে বেগমপাড়া করেছেন, যারা মালয়েশিয়া-আমেরিকায় টাকা পাঠাচ্ছেন, এগুলা হলো বড় বড় মানি লন্ডারিং, তাদের ধরেন।’

পরে অর্থপাচার মামলায় যুবলীগ নেতা মিল্টনকে আট সপ্তাহের জামিন দেন আদালত। জামিনের শর্ত হিসেবে আসামিকে পাসপোর্ট জমা দেওয়া ও তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, দিনাজপুরে সোনালী ব্যাংকের যে ব্র্যাঞ্চের কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে সেখানে ওই ব্র্যাঞ্চের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় ১৪ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ২১৮ টাকার জমা করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময় এ টাকা উত্তোলন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, যেখানে ব্যাংকের শাখারই কোনো অস্তিত্ব নেই, সেখানে এ অভিযোগ কীভাবে টিকে। তিনি আরও ২২টি মামলায় জামিনে রয়েছেন। জেলে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে চার মাসে ১৬টি মামলা করা হয় বলে জানান এ আইনজীবী।

দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান, প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে ৩৫ কোটি টাকার বেশি উপার্জনের অভিযোগে দিনাজপুরের সাবেক এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও দুইজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। মিল্টন জেলার খানসামা উপজেলার পূর্ববাসালী গ্রামের হাবিবুল্লাহ আজাদের ছেলে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দেওয়া ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য তথ্যসহ অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) ধারায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন বাদী।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ২০১৩ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ৮১১ টাকা জমা করেছেন তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে, যা অস্বাভাবিক। মিল্টনের মা রহিমা খানমের নামে ইসলামী সোশ্যাল ব্যাংক দিনাজপুর শাখার একটি হিসাবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৫৯ লাখ সাত হাজার ৭৭৪ টাকা জমা হয়। তাছাড়া ওই শাখায় আরও ১২টি হিসাব এবং রংপুর ও দিনাজপুরে রুপালী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে এসব টাকা জমা করা হয়।

‘অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় বাড়ি ও জমিজমা নিজ নামে এবং বেনামে কিনে স্বজনদের মাধ্যমে হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন বলে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

এর আগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি খলিলুল্লাহ আজাদের পরিবার থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, মাত্র চার মাসের ব্যবধানে খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের বিরুদ্ধে পুলিশ ১৬টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

তারা বলেন, এক মামলায় জামিন হলে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খলিলুল্লাহকে কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের পুলিশ সুপার পাল্টা প্রতিবাদ জানায়।

প্রতিবাদে পুলিশ সুপার বলেন, প্রকৃতপক্ষে মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন একজন ধূর্ত ও চতুর প্রকৃতির প্রতারক। তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী লোকজনকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মিল্টনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের নিকট হতে সুনির্দিষ্ট তথ্য সম্বলিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি জিডি ও ১৩টি মামলা রুজু হয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত করে চারটি জিডির প্রসিকিউশন ও পাঁচটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন। অন্যান্য মামলাগুলোও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102