সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

সিলেট বিভাগে তুলপাড়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওসির পোষ্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সিলেট সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ–এর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢালাও মন্তব্য করে পুরো সাংবাদিক সমাজকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ওসি রতন শেখ ধোপাজান নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে লেখেন—একজন ‘সাংবাদিক ভাই’ পুলিশের কাছে তদবির করে বড় নৌকার পরিবর্তে ছোট নৌকা জব্দ দেখানোর প্রস্তাব দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি হতে পারে ব্ল্যাকমেইল বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা ধোপাজান নদী রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ওসির এই পোস্ট জনসম্মুখে আসার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক তদবির করে থাকেন, তবে তার নাম প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু তা না করে অস্পষ্টভাবে ‘সাংবাদিক’ শব্দ ব্যবহার করে পোস্ট দেওয়া পেশাদার ও সৎ সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, ধোপাজান নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত হোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে না পেরে এখন দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নাম ও পরিচয় গোপন রেখে এমন অভিযোগ তোলা সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সাংবাদিক ও নাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন—যদি পুলিশ সত্যিই কঠোর হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হলো না কেন? অপরাধীকে আড়াল করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে অভিযোগ তোলার পেছনে কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কাছে।
এদিকে সিলেট বিভাগজুড়ে মূলধারার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাভিশনে সিলেট প্রধান দিপু সিদ্দিকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন,”এই ভদ্রলোককে ভালোই জানতাম। সুনামগঞ্জ গিয়ে এমন সম্পর্কে জড়িয়েছেন যে, অভিযানে জব্দ আলামত বদলের প্রস্তাবও দেয় কেউ কেউ। সম্পর্ক কতটা গভীর হলে এমন প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব? যে ভালোবাসার মানুষ প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে আটক করা উচিত ছিলো তার। তা না করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি! আসলেই তিনি মহৎ”?
দৈনিক শ্যামল সিলেট  ও নিউজক্লিকবিড ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিজাম উদ্দিন টিপু তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন,❝কনটেন্ট ক্রিয়েটর❞ হিসেবে পরিচিত ওসি রতন শেখ সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তার সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে। কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বিষয়টি “সারাবাংলা”-তেও সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে তদবিরের অভিযোগও উঠেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—একজন সাংবাদিক কেন একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অনৈতিক তদবির করবে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন?
সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে, ঘটনাগুলো এখন নতুনভাবে মূল্যায়নের দাবি রাখে। সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি; অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102