

ঈদের আনন্দ থেকে বাদ যাননি মৌলভীবাজারের কারাবন্দিরাও। মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ি ও পায়েস।
মৌলভীবাজার কারাগারের জেল সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বন্দিরা যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্যই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। তারা নামাজ আদায় করেছেন, একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন। এদিন কারাগারে বন্দি ও তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে কারাগার পরিদর্শনে আসেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দুপুরের খাবারে রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা, এ ছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হয় সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজ আদায়, উন্নতমানের খাবার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০ লুঙ্গি ও শাড়ী বিতরণ করা হয়েছে।
জেলার বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কারাগার শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে সমাজে সৎ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে মৌলভীবাজার কারাগারে ৫৫৯ জন বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।