

সাহান আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গরাজ্যে চলে ঘূর্ণিঝড় আইডার তাণ্ডব। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিউইয়র্ক রাজ্যে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ গাড়িতে এবং আটজন বন্যার পানি ঢুকে বাড়ির ভেতরেই মারা যান।
এদিকে নিউজার্সিতে কমপক্ষে ২৫ জন এবং পেনসিলভেনিয়ার শহরতলির মন্টগোমেরি কাউন্টিতে তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন গাছের নিচে পড়ে মারা গেছেন, একজন গাড়িতে এবং আরেকজন বাড়িতে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কানেকটিকাটে একজন কর্তব্যরত রাজ্য সৈন্যকে তার ক্রুজারটিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় ১ সেপ্টেম্বর রাতে এমন বৃষ্টির পর নিউইয়র্ক গভর্নর ক্যাথি হোচুল ও শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও যৌথভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
নিউজার্সির প্যাসাইক শহরের মেয়র হেক্টর লোরা জানান, নিউজার্সি শহরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে একজন গাড়িচালক মারা গেছেন।
রাজ্যের অনেকাংশে বন্যার কারণে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়। বন্যাকবলিত নেয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। নিউজার্সি ট্রানজিট আটলান্টিক সিটি লাইন ছাড়া সমস্ত রেল পরিষেবাও স্থগিত করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে বুধবার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টায় ৩.১৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়, যা রেকর্ডে সবচেয়ে বেশি। বুধবার সন্ধ্যায় ছয় মিনিটে নেয়ার্ক বিমানবন্দরে অর্ধ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ২৩ মিনিটের মধ্যে ১.৫৩ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছেন।
এদিকে পেনসিলভেনিয়ায় ১ লাখ ৯ হাজার, নিউজার্সিতে ৮৭ হাজার, নিউইয়র্কে ৩৮ হাজার, কানেকটিকাটে প্রায় ১৬ হাজার এবং মেরিল্যান্ডে ১১ হাজারেরও বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।