

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া’কে প্রদত্ত শোকজ নোটিশকে কেন্দ্র করে বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ও বক্তব্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নবীগন্জ বিএনপি।
রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বিএনপি নেতাকে ৩দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন পূর্ব ভিডিও বার্তায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান এ ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষনা দেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘরে বিবেদ তুঙ্গে উঠেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুন্ম আহবায়ক শেখ সুজাত মিয়া ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। রেজা কিবরিয়া বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুইজন শেখ সুজাতের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত।
বিএনপির এই বিরুধের সুযোগে সুবিধা জনক অবস্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী। হবিগঞ্জ-১ আসনের হিসাব নিকাশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন । এই আসনে এখন ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও শাহজাহান আলী সমান তালে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অবস্থা দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া সেন্টু পৃথকভাবে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ডক্টর রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডক্টর রেজা কিবরিয়াকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা বিএনপি দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেন। হাতে গুনা দু-একজন ব্যতিত নবীগন্জ প্রেসক্লাবের কোন সাংবাদিকদের দাওয়াত না দিলেও অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডির সরাসরি ফেসবুক লাইভ করা হয়। ভিডিও বার্তায় নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা তার বক্তব্যে মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও জিতু মিয়া সেন্টুর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষনা দেন। পাশাপাশি এ ঘটনার জন্য বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া’কে দায়ি করেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, শেখ সুজাতের পিএস জিতু মিয়া সেন্টু ও বিএনপি নেতা মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমা কে কারন দর্শানোর জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে নোটিশ করা হয়েছে। কেন তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যা অভিযোগ করলেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক জবাব না দিলে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করে এর নিন্দা জানিয়ে তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
বিএনপির দুই প্রার্থীর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তোপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘরের বিবাদ নিরসন না করলে আগামী নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সাধারণ নেতাকর্মীদের। ইতিমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। যার প্রভাব ও পরিচিতি রয়েছে তৃণমুল পর্যায়ে। এই নির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন। ফলে বিএনপির গৃহবিবাদকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিতে পারেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী ।
সচেতন মহল ও সাধারণ কর্মীরা বিএনপির অভ্যন্তরের কোন্দল নিরসনের জন্য দ্রুত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।