শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ে বিএনপির অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অংশগ্রহণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১১২ এই পর্যন্ত দেখেছেন
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় জিয়া পরিষদের মিছিলে যোগ দিয়ে আলোচনা সভায় অতিথির হিসেবে যোগদান ও বক্তব্য রাখায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদ রয়েল।
জানাযায় গত শনিবার ( ২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা জিয়া পরিষদ আয়োজিত মিছিল অংশ নেয়া সহ বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে “শহীদ জিয়া ও আমাদের গনতন্ত্র বিষয়ক’’ আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে যোগদান করেন ও সভায় বক্তব্যও রাখেন। সেদিনের মিছিল ও সভার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যেম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একজন সরকারী কর্মকর্তা কিভাবে একটি রাজনৈতিক দলের মিছিল যোগ দিয়ে আলোচনা সভায় রাজনৈতিক নেতার মত বক্তব্য রাখেন এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলের মানুষের মাঝে। একজন সরকারী কর্মকর্তাকে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নানা কর্মকান্ডের উর্ধ্বে থাকা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিয়া পরিষদের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র  জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা শাখা বিএনপি’র সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদ রয়েল উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ময়দানদিঘী ও কালিয়াগঞ্জ ক্লাস্টারের দ্বায়িত্বে আছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র পঞ্চগড় জেলা শাখার প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ভূট্টু বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে উনি সরকারী চাকুরী বিধিমালা ভঙ্গ করেছেন। বিধায় সরকারী বিধি মোতাবেক এ ধরনের কর্মকান্ডে অংশ নেয়ায় চাকুরি থেকে অপসারণ, বরখাস্ত বা তার চাকরি থাকার কথা না। চাকুরী আইন অনুযায়ী তাকে চাকুরি থেকে অপসারণ করা বাঞ্ছনীয় এবং করতেই হবে, এটা প্রশাসনের দ্বায়িত্ব। কারণ আগামীতে যে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তাতে যদি উনাকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে নির্বাচন বিতর্কিত হতে পারে। যারা সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী সরকারের কোন নির্বাচনের বা কোন দলের পক্ষপাতিত্ব হয়ে জনগণের কাছে পার্টিসিপেশন করতে পারবে না বা বক্তব্য দিতে পারবেনা, আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে পারবেনা। তারা যদি করে তাহলে তারা চাকরির বিধান মত আইন ভঙ্গ করেছে তার চাকরি চলে যেতে পারে।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদ রয়েল বলেন, জিয়া পরিষদ দলীয় প্রোগ্রাম না। এটা হইছে কি টিচারেরা আমাকে ডাকছিল, যে কারণে গেছিলাম। সব টিচাররা সরকারী কাজে গেছিল। এটা জিয়া পরিষদ কোন দল না, এটা ওরা গঠন করছিল যে কারণে আমাকে ডাকছিল ওরা। আমি অবশ্য বিষয়টি জানতাম না। এজন্য গেছিলাম। আমরা চাকরিজীবি আমাদের রাজনীতি কিসের। সরকারের যত কাজ আছে সেগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করা দ্বায়িত্ব। আপনি আমাদের দেখলে চিনবেন হয়তো। আপনাদের সবাই আমাকে চেনেন।আপনিও চিনবেন আমাকে।তবে অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দানের বিষয়টি স্বীকার করলেও মিছিলে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান মন্ডল বলেন, নিঃসন্দেহে সরকারী চাকরিজীবি কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্মে যেতে পারেন না। সরকারী চাকরিজীবিদের রাজনীতি করার কোন এখতিয়ার নেই। উনি গেছেন কিনা আমি বিষয়টি জানিনা। তবে আমি উনাকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করবো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারী চাকরিজীবি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি নীতিমালায় আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন কোন নীতিমালা নেই।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102