

নবীগঞ্জে বসতঘরে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) নামের এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে কস্টিপ লাগানো মরদেহ উদ্ধার ও হত্যার রহস্য নিয়ে ধুম্রজাল বিরাজ করছে। সন্দেহভাজন হিসাবে পুত্রবধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর ভাই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার পর নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসী পুত্রের স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ী ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ পুত্রবধূকে আটক করলে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি দেন বধু তামান্না। নিহত বৃদ্ধা ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাই প্রবাসী। বাড়িতে বউ-শাশুড়ী একা থাকতেন।
জানাযায়, উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী(৫৩) নামে ওই বৃদ্ধা নারীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে কস্টিপ লাগানো অবস্থায় সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ মৃতের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন। এদিকে বৃদ্ধা ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর নির্মম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিহতের পুত্রবধু তামান্না আক্তার (২২) কে আটক করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তামান্না আক্তার স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি প্রদান করেন।
তিনি জানান সুনামগঞ্জের একটি ছেলের সাথে তার পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে ওই ছেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন গৃহবধূ। রবিবার দিবাগত রাতে পরকীয়া প্রেমিক আর দুটি ছেলেসহ তামান্না আক্তারের সাথে দেখা করতে আসে। তখন পরকীয়া প্রেমিক তামান্না আক্তারকে বলে তার কাছে রক্ষিত স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা দিয়ে দিতে। পরে তাকে নিয়ে যাবে। তখন তামান্নার কাছে রুক্ষিত ৬ ভরি স্বর্ন, তারা শাশুড়ির আরও ৫ ভরি স্বর্ন আলমেরার তালা ভেঙ্গে প্রদান করে, এসময় ফেরদৌসীর গলার চেইন নিতে গেলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন তিনি চিৎকার করলে পুত্র বধু ও পরকীয়া প্রেমিক সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন মিলে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর হাত,পা বেঁধে এবং মুখে কস্টিপ লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।
গত সোমবার গভীর রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামের নিজ বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত গৃহবধুকে নিজ ঘরে হাত ও পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং চিৎকার রোধ করতে মুখে কস্টিপ পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাকা ঘরের ভেতরে ঘটনাটি সংঘটিত হলেও কোন দরজা জানালা ভাঙ্গা ছিলো না। তাই ঘটনাটি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়। মৃত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর একমাত্র পুত্র রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ডুবাই প্রবাসী। বাড়িতে তার মা আর স্ত্রী তামান্না বেগম চৌধুরী(২৯) বসবাস করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। এবিষয়ে পুত্রবধুর কথা বার্তা সন্দেহজনক হলে তাকে পুলিশ আটক করে নবীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞসাবাদ করে হত্যার রহস্য উম্মোচন করেন।
বিস্বস্থ সুত্র জানায়, পুত্রবধূ তামান্না বেগম চৌধুরীর স্বামী প্রবাসে থাকার কারনে তিনি ম্বশুড়িকে নিয়ে একা বসবাস করে আসছিলেন। এই সুযোগে তার এক আত্বীয়ের সাথে পরকিয়া সম্পর্কে লিপ্ত হন। এই পরকিয়ার বিষয়টি শাশুড়ি ফেরদৌসী দেখে ফেলেন। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি শাশুড়িকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন প্রচুর বৃষ্টি ও ঝড় তুফান হলে, বিদ্যূতবিহীন ছিলো পুরো এলাকা। সেই সুয়োগে ঐদিন রাতেই তার পরিকল্পনা মোতাবেক হাত-পা বাঁধা ও চিৎকার না করার জন্য মুখে কস্টিপ লাগানো হয়। পরে পরকিয়া প্রেমিককে নিয়ে শাশুড়িকে হত্যা করেন। পরদিন সকালে পাড়া প্রবিবেশী জানান, ডাকাত ডুকে তার শাশুড়িকে মেরে তার কাছে রক্ষিত ১১ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে গেছে। এরপরই পুলিশ রহস্য উম্মোচনের জন্য তদন্ত নামে ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে গ্রেফতার করেন। মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) তামান্নার ১৬৪ ধারায় হবিগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধি প্রদান করেন। এঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাচ্ছির মিয়া বলেন, আমাদের কাছে প্রথমেই হত্যাকান্ডটি রহস্যজনক মনে হয়েছে। ঘরের দরজা জানালা কিছুই ভাঙ্গা নেই। তখনই মনে হয়েছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমি শুনেছি পুত্রবধুর একটি ছেলের সাথে পরকিয়া সম্পর্ক ছিল এরই জেরে হত্যা সংঘটিত হতে পারে।
মামলার বাদী ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার কাছে রক্ষিত ১১ ভরি স্বর্ন লুট করেছে। আমি আমার নির্দোষ বোনের হত্যার বিচার চাই।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া জানান,পুলিশ তদন্ত শুরু করে ফেরদৌসী হত্যার রহস্য উম্মোচন করেছে। পুত্রবধু তামান্নাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহতের ছেলের বউ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি প্রদান করেছে। পুলিশ দ্রুত অপর অপরাধিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।