

বর্তমান সময়ে রাশিয়ার সর্বত্রই সোভিয়েত ইউনিয়নের স্মৃতিচারণ সবার মধ্যে দারুণভাবে জনপ্রিয়। সোভিয়েত যুগের রান্নার প্রভাব এখনো দেখা যায় অনেক রাশিয়ানদের মধ্যেই। সোভিয়েত ঐতিহ্যের স্মারক ওই সময়কার মানুষের বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাস বর্তমান রাশিয়ান সমাজেও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অনেকেই তাদের পুরনো ঐতিহ্য ধারণ করছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রাশিয়ানদের রুটি খাওয়ার অভ্যাস। জানা যায়, তৎকালীন সোভিয়েত পরিবারে পাস্তা রুটি খাওয়ার প্রচলন ছিল, এমনকি অনেক পরিবার তরমুজের সঙ্গেও রুটি খেতেন। সোভিয়েত যুগের অনেকের মধ্যেই এই অদ্ভুত অভ্যাস ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।
বর্তমানে এই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেলেও, রুশদের দীর্ঘদিনের রুটি খাওয়ার অভ্যাসটি আজকের দিনেও ভালোভাবে টিকে আছে। ২০ শতকের শুরুতে একজন সাধারণ সোভিয়েত শ্রমিক প্রতিদিন এক কেজি পর্যন্ত রুটি খেতেন। যখন সোভিয়েত রাষ্ট্রে খাদ্য সংকট চলছিলো তখন রুটিই ছিল দ্রুত ও সস্তা খাবারের একমাত্র উৎস। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের দেয়া ভর্তুকি বা উপহার ছিল তখনকার সময়ের সাধারণ মানুষের খাদ্যাভাব পূরণের একমাত্র উপায়। ওই সময়কার ক্যাফে ও কর্মচারীদের খাবার ঘরে পোস্টারে লেখা থাকতো ‘মিতব্যয়ী হোন, আপনার রুটির অপচয় করবেন না, এটা রাষ্ট্রের সম্পদ!’ আজকের দিনে এসে অনেক পুষ্টিবিদদের কাছে এই খাদ্যাভ্যাস হাস্যকর মনে হলেও তখনকার মানুষের জন্য এটাই ছিল স্বাভাবিক। প্রতিবেদন দ্য মস্কো টাইমসের।
সোভিয়েত সময়ে টেবিলে বসার আগে প্রথম কাজ ছিল চামচ এবং ফর্কগুলো মুছে নেয়া। কারণ রেস্তোরাঁয় পরিষ্কার চামচ-বাটি পাওয়া ছিল এক প্রকার ভাগ্যের ব্যাপার। খাবার খাওয়ার আগে সবার কাছে রুটি খাওয়া এবং খাবারেনুন দেয়ার অভ্যাস প্রচলিত ছিল।
খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন পানীয়ের প্রচলনও ছিল। সোভিয়েত উৎসবের টেবিলে সবসময় সাজানো প্লেটে থাকতো স্লাইস করা পনির ও সসেজ থাকতো। এই দৃশ্য আজও অনেক রাশিয়ান পরিবারের খাবার টেবিলে দেখা যায়। এটি কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয় বরং প্রচলিত সাধারণ ঐতিহ্য। সোভিয়েত সমাজের জন্য এই সময়টায় ছিল সীমিত খাবারকে সবার মাঝে ভাগ করে নেয়ার সহজ উপায়।
সোভিয়েত যুগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল সসেজ এবং ঠাণ্ডা পানিয়ের প্রতি ভালোবাসা। এসময়ে প্রক্রিয়াজাত মাংস ছিল সবার কাছে কাঙ্ক্ষিত একটি খাবার। সোভিয়েত সময়ে মাছের পরিবর্তে মাছ দিয়ে তৈরি সসেজ বেশি প্রচলিত ছিল। এময় একটি শ্লোগান প্রচলিত ছিল-‘সেরা মাছ সসেজ।’ এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাছ প্রক্রিয়াজাত করতে প্রচুর সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সসেজ কেবল কেটে রান্না করলেই হয়ে যায়।
কনজার্ভড খাবার ব্যবহারের দিক থেকে সোভিয়েত সমাজ বিশ্বে অন্যতম। স্প্যাম, স্প্যার্টস, ক্যানড স্যামন ছিল সোভিয়েত টেবিলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সোভিয়েত সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সালাদগুলোর মধ্যে একটি হলো ১৯৬০-এর দশকের জনপ্রিয় ‘হেরিং আন্ডার এ ফার কোট।’ সোভিয়েত রান্নায় সালাদের মূল কাজ ছিল প্রথম পানীয়ের জন্য অ্যাপেটাইজার হিসেবে পরিবেশন করা। এখনকার রাশিয়ান সমাজেও এই সালাদের তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। অনেক রাশিয়ানই তাদের সোভিয়েত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এ সালাদ পরিবেশন করে থাকেন।
আজকে জানবো সোভিয়েত ডিস হেরিং আন্ডার এ ফার কোট সম্পর্কে।
হেরিং আন্ডার এ ফার কোট (উপকরণ-৬ জনের জন্য)
প্রস্তুত প্রণালী
ঐতিহ্যবাহী হেরিং আন্ডার এ ফার কোটের আরো আকর্ষনীয় পরিবেশনার জন্য, প্লেটে রন্ধনপ্রক্রিয়ার রিং ব্যবহার করতে পারেন। সালাদ সবচেয়ে ভাল আকৃতি রাখতে, প্রতিটি স্তরকে আলাদাভাবে মেয়োনিজের সাথে মেশান। রিংগুলোকে স্তরগুলি দিয়ে পূর্ণ করুন, এবং পরিবেশন করার আগে সতর্কভাবে রিংগুলো অপসারণ করুন।
সালাদের জন্য আরো স্মুথ সস তৈরি করতে, ক্লাসিক রেসিপিতে একটি ছোট পরিবর্তন করুন। মেয়োনিজের সাথে সামান্য দই (৩:১ অনুপাতে) এবং একটি চা চামচ লেবুর রস যোগ করুন।
সোভিয়েত সময়ের রান্নার এই বৈশিষ্ট্যগুলো যে কোন রাশিয়ানকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যা বর্তমানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে অতীতের।
নিউজ /এমএসএম