

যশোরের শার্শা উপজেলায় পল্লিচিকিৎসক আল আমিন হোসেন (৩০) হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে পথরোধ করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে।
নিহত আল আমিন নাভারন এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। পল্লিচিকিৎসক হিসেবে তিনি এলাকার মানুষদের সেবা দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আল আমিনের মৃত্যু এলাকায় এক ধরনের শোক এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার মরদেহ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শার্শা থানার পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপের চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১০টার সময় এলাকার সড়কগুলো অল্প আলোযুক্ত ছিল। দুর্বৃত্তরা সেই সুযোগে নৃশংস হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করছে। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায় পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে দুইটি সম্ভাব্য কারণ প্রধান। এক, পারিবারিক অশান্তি দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ের পর সংসারে উত্তেজনা চলছিল। দুই, অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রেক্ষাপট। অনুসন্ধান এখনও চলমান এবং পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এস এম মোশারফ হোসেন জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আল আমিনের দুইটি সংসার ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ের পর সংসারে অশান্তি চলছিল। আমরা যাচাই করছি, এই বিষয়টি কি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। পারিবারিক কলহ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।