

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ঝলমলে চুল সবারই পছন্দ। সৌন্দর্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে চুল। সবাই চান চুল দেখতে সুন্দর লাগুক। কিন্তু প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় হয়তো চুলের সঠিক যত্ন করা সম্ভব হয় না। এ জন্য চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। রুক্ষ, ডগা ফাটা চুলের জন্য যত্ন প্রয়োজন। প্রতি দিনের ধুলোবালি, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ক্ষতি হয় চুলের। সে জন্য নিয়মিত পরিচর্যা দরকার।
আবার অনেকেই আছে চুলে নিয়মিত যত্ন নেন কিন্তু সেভাবে ফল পান না। নিয়মিত শ্যাম্পু থেকে শুরু করে হরেক রকমের হেয়ারপ্যাক ব্যবহারে হতাশ হয়ে পড়েন। এই সমস্যা সমাধান আপনার হাতের নাগালেই। খাদ্যাভ্যাসে কিছু রদবদল করতে পারলেই চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। চুল ঝরা বা রুক্ষ হয়ে পড়ার নানা কারণ থাকে। পর্যাপ্ত পানীয়ের অভাব, পুষ্টিকর খাদ্য বাদ পড়লেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাহ্যিকভাবে চুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পুষ্টিসম্পন্ন খাবার যোগ করতে পারলেই চুল হয়ে উঠবে মনের মতো সুন্দর। জেনে নিন কোন কোন খাবারে চুল ফিরে পাবে নিজস্ব জৌলুশ।
চুলের অন্যতম গুরুত্বপূ্র্ণ উপাদান হল কেরাটিন নামে প্রোটিন। ফলে একঢাল সু্ন্দর ঘন কেশ পেতে খাবার পাতে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট— সব কিছুই খাকা প্রয়োজন। নিয়মিত কোন খাবার খেলে ভালো থাকবে চুল?
বাদাম
রকমারি বাদামে থাকে প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও খনিজ। প্রতিটি উপাদানই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। কাঠবাদাম, আখরোটে পাওয়া যায় বায়োটিন, ভিটামিন ই। চুল ভালো রাখতে তা বিশেষ সহায়তা করে। ভিটামিন ই মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো লাগে। ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের পুষ্টি জোগাতে ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।
সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩-এর মতো ফ্যাটি এসিড থাকে, যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে উপস্থিত অন্যান্য খাদ্য উপাদান চুল মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
মাছ ও ডিম
ডিমে প্রোটিন ও বায়োটিন ভরপুর মাত্রায় পাওয়া যায়। চুল ভালো রাখতে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খুব জরুরি। পাশাপাশি, মাছেও ভালো মানের প্রোটিন থাকে। এছাড়া পমফ্রেট, কাতলা, ইলিশ মাছগুলিতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মেলে। ডিম ও মাছে থাকে ফসফরাস, জিঙ্ক, যা চুল ভালো রাখার জন্য জরুরি।
পালং শাক
এতে রয়েছে আয়রন। চুলের ফলিকলে অক্সিজেন সংবহনে আয়রনের প্রয়োজন। এই শাকে পাওয়া যায় ভিটামিন এ এবং সি। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষ উপকারী। এই দুই ভিটামিন মাথার ত্বকে সিবাম উৎপাদনে সহায়তা করে। মাথার ত্বক থেকে নিঃসৃত হয় সিবাম, যা চুলকে আর্দ্র রাখতে ও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
শাক-সবজি
চুলকে আরো বেশি ঝলমলে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে শাক-সবিজর কোনো জুড়ি নেই। শসা, বেগুন, আলু, টমেটো, পালংশাকসহ বিভিন্ন শাক-সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন ‘এ’সহ আরো অনেক প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান, যা চুলকে স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় শাক-সবজি রাখতে পারলে তা ক্রমাগত শরীরের পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেবে। যেসব সবজি কাঁচা খাওয়া যায় সেগুলো দিয়ে সালাদ বানিয়ে খেলে বেশি উপকার মিলবে।
গ্রিক ইয়োগার্ট বা গ্রিক দই
গ্রিক ইয়োগার্ট বা গ্রিক দই চুল পড়া বন্ধ করে এবং পাশাপাশি চুলের গোড়া শক্ত করে। গ্রিক ইয়োগার্টে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। নিয়মিত গ্রিক ইয়োগার্ট খেলে চুল হবে ঘন ও মজবুত। বাজারে সাধারণ গ্রিক ইয়োগার্টের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্লেভারেরও গ্রিক ইয়োগার্টও পাওয়া যায়। এছাড়া সুবিধামতো ঘরেও বানিয়ে নিতে পারেন গ্রিক দই। অনলাইনে অনেক রকমের টিউটরিয়াল রয়েছে গ্রিক ইয়োগার্ট বা দই বানানোর।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’। ভিটামিন ‘এ’ চুলে প্রাকৃতিকভাবে সেরাম উত্পন্ন করে চুলকে রুক্ষ হওয়া থেকে রক্ষা করে। চুলকে প্রাকৃতিকভাবে করে আরো উজ্জ্বল করে তোলে। এ ছাড়া মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন চুল ও মাথার ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখতে সাহায্য করে। এতে চুলের গোড়া ভালো থাকে। চুলের গোড়া মজবুত হয়। সহজে চুল পড়ে যায় না। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে মিষ্টি আলু খেতে পারেন। কিংবা সিদ্ধ করেও খেতে পারেন।
নিউজ /এমএসএম