

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে সাবেক ১৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলার উদ্দেশে দুটি অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি। অভিযোগ দুটি হলো- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এবং দুই বছর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের নামে ‘লুটপাট ও ডাকাতি’।
বিএনপির মামলার তথ্য ও সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা সালাহউদ্দীন খান বাদী হয়ে এই দুটি মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সেন্টু মিয়া মিয়া বলেন, তাদের অভিযোগটি রাখা হয়েছে। তবে মামলা হিসেবে রেকর্ডের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
যদিও বিএনপি নেতাদের মামলা গ্রহণের যে কাগজপত্র দেয়া হয়েছে, সেখানে দুটি মামলা দায়েরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সালাহউদ্দীন খান বলেন, ডাকাতির অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদসহ ১৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ কর্মকর্তারা পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অফিসের সব মালামাল নিয়ে যায়। প্রায় ৪৭ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করেছে। আর সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট করেছে। এটি ডাকাতির অভিযোগে করা হয়েছে।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের আরেক মামলায় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। সালাহউদ্দীন খান বলেন, মামলাটি চলতি বছরের ১৬ জুলাই বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ত্র তৈরি করার হাতিয়ারসহ বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র, গোলা বারুদ নিয়ে প্রবেশ করেন। দলটির ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে তারা বোমা রাখেন। তারা বাইরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটা ত্রাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের এ অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আরো যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল আলম, হাফিজ আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম) আসাদুজ্জামান যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) খন্দকার নুরন্নবী, সনজিত কুমার রায়, যুগ্ম পুলিশ কমিশার (ডিএমপি) বিপ্লব কুমার দাসসহ ১৬ জন। এদের মধ্যে সাবেক আইজিপি ও সাবেক ডিএমপি কমিশনারকে অব্যাহতি দেয়া হলেও বাকিরা এখনো পুলিশের চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন।
নিউজ /এমএসএম