

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আবদুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
এর আগে, হাবিবুর রহমান ও মনিরুল ইসলামকে সরিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরে যুক্ত করা হয়েছিল। জানা গেছে, মনিরুজ্জামান ও আব্দুল বাতেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে রংপুরে বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের ঘটনায়। তারা আবু সাঈদ হত্যাকা-ের সময় রংপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড়ে এলে আবু সাঈদ ছিলেন সবার আগে। একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করলে সাঈদ দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এ হত্যাকা-ে দায়ের হওয়া মামলায় আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যার বিষয়টি আড়াল করা হয়। আবু সাঈদ বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রথমে ১৬ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নানামুখী চাপে আরএমপির এএসআই আমির হোসেন ও পুলিশ কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সোচ্চার হয় মানুষ, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
নিউজ /এমএসএম