

চলমান অবস্থার পরিপেক্ষিতে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিজয়ের এই আনন্দঘন সময় শান্তভাবে উদযাপন করুন। অনুগ্রহপূর্বক কেউ প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা পরায়ণ হবেন না। কেউ নিজের হাতে দয়া করে আইন তুলে নেবেন না।
তিনি আরও বলেন, জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশ্যই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
এর আগে বিরাজমান পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানান।

এছাড়া, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকর-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান অতি দ্রুতই দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদের নেতা তারেক রহমান, তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। তিনি এ আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, তাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব।
মির্জা ফখরুল বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে। মুক্তি দেওয়া হবে সেসব মানুষকে যাদের রাজনৈতিক কারণে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি নিয়ন্ত্রণে সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা কাজ করবেন।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা একটি বড় বিজয়, বড় সাফল্য পেয়েছি। সে সাফল্যকে ধরে রাখতে নিজেরা সংযমের পরিচয় দেই, ক্রোধ-ঘৃণা বা প্রতিহিংসার বশবর্তী না হয়ে কাউকে আক্রমণ না করি, কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না করি। বিশেষ করে আমাদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভাইদের যেন আক্রমণ না করি।
সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তাদের রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমি আমাদের দলের সবার প্রতি আহ্বান জানাই, যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে- দুর্বৃত্তদের সে সুযোগ দেবেন না, যে সুযোগে দুর্বৃত্তরা অন্যদের ওপর আঘাত হানে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। গত ৮ জুলাই থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। দুই–এক দিনের মধ্যে তাঁর বাসায় ফেরার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর বিকেলে দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অংশ নেন।
বৈঠকের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি জানান সেনাপ্রধান। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথাও বলেন তিনি।
নিউজ /এমএসএম