

মৃত্যু অবধারিত ও সুনিশ্চিত বিষয়। আমরা যেখানেই অবস্থান করি না কেন যেকোনো সময় মৃত্যু চলে আসতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত’ (সুরা লোকমান: ৩৪)।
তাই ইসলামি অনুশাসন মেনে জীবন অতিবাহিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতেই সুন্দর ও উত্তম মৃত্যু নসিব হয়। যদি পাপাচার করতে করতেই মৃত্যু উপস্থিত হয়, তাহলে তার সুন্দর মৃত্যু নসিব হয় না। এখানে কোরআন-হাদিসের আলোকে সুন্দর মৃত্যুর আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
২. আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম মৃত্যুর জন্য দোয়া করা। (সুরা ইমরান: ১৯৩; ইউসুফ: ১০১)
৩. ইবাদতের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। (সহিহ মুসলিম: ২৬১৩)
৪; জাহের ও বাতেন তথা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আমলের সঙ্গে লেগে থাকা। (বুখারি, আস-সহিহ: ১৪২৩; মুসলিম: ১০৩১)
৫. দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা। (সুরা হা মিম সাজদাহ: ৩০-৩১)
৬. আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করা। (মুসলিম: ২৮৭৭; আবু দাউদ: ৩১১৩; ইবনে মাজাহ: ৪১৬৭; বায়হাকি ও আহমদ: ১৩৭১১ ও ১৩৯৭৭)
৭. তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। (সুরা আনফাল: ২৯)
৮. বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা। (সুরা নিসা: ২৭)
৯. বেশি বেশি মৃত্যুর চিন্তা করা এবং দীর্ঘ জীবনের আশা পরিত্যাগ করা। (সুরা ইমরান: ১৮৫; ইবনু মাজাহ: ৪২৫৯; সহিহাহ: ১৩৮৪)
১০. অপমৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চাওয়া। (মুসাননাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩/৩৭০; বায়হাকি: ৩/৩৭৯; আবু দাউদ: ১৫৫২)
এখানে বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে দুনিয়ার মোহ কেটে যায় এবং আখেরাতের চিন্তা সৃষ্টি হয়। ফলে আমলনামা সমৃদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে কবর জিয়ারতও একটি মাসনুন আমল। আমলের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য নেককার লোকের সংস্পর্শও খুবই ফলপ্রসূ আমল। এতে হৃদয়ে ঈমানি চেতনা ও নেক আমলের প্রেরণা বৃদ্ধি হয়। হাদিসে আরেক বিষয় অবগত করা হয়েছে। সেটি হলো মৃত্যু উপস্থিত হলে আল্লাহর রহমতের আশা করা এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহপোষণ করা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে যেন শুধু এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে সে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮৭৭)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর মৃত্যুর জন্য উপরোক্ত আমলগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নিউজ /এমএসএম