

চায়ের উৎপাদনের ১৭০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে এবার। ২০২৩ সালে দেশের ১৬৮টি চা-বাগান থেকে ১০ কোটি ২৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়। এদিকে বর্তমান মৌসুমে রেকর্ড ভঙ্গ করে চা উৎপন্ন হওয়া মহাখুশি চা সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় চা রপ্তানি উপর জোর দেয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন চা শিল্পে সংশ্লিষ্ট সকলেই। তবে তারা মনে করেন, চায়ের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী। সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে হলে সিন্ডিকেটের কবল থেকে চা শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। এব্যাপারে সরকারকে দৃঢ় প্রদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র জানায়, বাগানগুলোর আয়তন এরই মধ্যে আড়াই শতাংশ হারে বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সব মিলিয়েই এই ইতিবাচক ফল পাওয়ার পেছনে রয়েছে সুষম আবহাওয়া, সঠিক পরিকল্পনা, পুরোনো গাছ সরিয়ে নতুন চারা রোপণ।
বাগানমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান তানভীরুল রহমান চা উৎপাদনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদকরা যাতে চায়ের ভালো দাম পান সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
তবে চা-বাগান মালিকরা মনে করেন, সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজারে যদিও চায়ের কেজি ২০০-২৮৫ টাকা। কিন্তু তারা সর্বোচ্চ ১৮৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে চা উৎপাদন অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হবে।
চা-বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবারই প্রথম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশাল সফলতা এসেছে। ২০২৩ সালে দেশের বাগানগুলো থেকে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৯ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। ২০২১ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়। ২০২২ সালে ১০ কোটি কেজি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও উত্পাদিত হয় ৯ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার কেজি। এর মধ্যে সিলেটেই রয়েছে ১৩৬টি চা-বাগান।
বাংলাদেশ চা-বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এনডিসি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, সবার সমন্বিত চেষ্টার ফলে এবার সব রেকর্ড ভঙ্গ করে সর্বোচ্চ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বাগান মালিক, শ্রমিক, চা-বোর্ডের কর্মকর্তাদের জন্য।
চেয়ারম্যান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাগানগুলোতে পুরোনো চা-গাছ সরিয়ে নতুন গাছ লাগানোতে নজর দেওয়া হয়েছে। বাজারে অবৈধ পথে আসা চা যাতে ঢুকতে না পারে, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থও যাতে সুরক্ষিত হয়, সে সব দিক খেয়াল রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সমতলে চা চাষের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বিনা মূল্যে চারা ও মেশিনারিজ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চল ও সমতলেও চা চাষের পরিমাণ বেড়েছে।
২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়াসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশের চা উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম ছিল। ইদানীং চা-বোর্ডের নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চা উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। একই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের সমতল এলাকার বাগানগুলোতেও চা উৎপাদন বাড়তে থাকে। আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, চা বিপণনে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান