মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

মেয়ের শ্লীলতাহানি

বিচার না পেয়ে ক্ষোভে বাবার আত্মহত্যা

খাদেমুল ইসলাম
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  • ২১৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মেয়ের শ্লীলতাহানির বিচার না পেয়ে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের লাখেরাজ ঘুমটি এলাকার গজেন চন্দ্র বর্মন। জানা যায়, তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন পলাশ চন্দ্র বর্মন (৩০) নামের এক যুবক। এঘটনার বিচার দাবি করলে বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে সুরাহার আশ্বাস দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও কোন সুরাহা পাননি ভুক্তভোগির বাবা। বারবার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েও ঘঠনার বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন গজেন চন্দ্র বর্মন (৫০) নামের ওই ব্যক্তি।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে গলায় চাঁদর পেচিয়ে বাড়ির অদুরে আবাদি জমির পাশের একটি পাখুঁরী গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে, আত্মহত্যার জন্য মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মনকে দায়ী করছেন মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, চেয়ারম্যানের দায়িত্বহীনতার কারণে মেয়ের শ্লীলতাহানির বিচার না পাবার আশঙ্কায় ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন গজেন বর্মন।

গজেন বর্মনের ছেলে সুজন বর্মন বলেন, তার কলেজ পড়ুয়া ছোট বোনকে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে প্রতিবেশি শ্যামল চন্দ্র বর্মনের ছেলে পলাশ চন্দ্র বর্মন অসৎ উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে টেনেহিচড়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। পরে পরিবারের লোকজন দেখে ফেলায় পলাশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পলাশ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন তার বোন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিলো। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আমাদের পারিবারিকভাবে সম্মানহানি হয়। পরে আমরা পলাশের বিচার দাবি করলে চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন আমাদের আশ্বস্থ করেন যে বিষয়টি তিনি সুরাহা করবেন। কিন্তু এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও বিচার এর কোন উদ্যোগ নেননি চেয়ারম্যান। পরে আমরা গত ২৪ জানুয়ারি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই। ১ ফেব্রুয়ারী ছিলো ইউনিয়ন পরিষদে বসার তারিখ কিন্তু সেখানেও বসা হয়নি বলে আমরা ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। সেই আশঙ্কা থেকেই রাতে আমার বাবা কাউকে কিছু না বলে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ করেছি। গত ১ ফেব্রুয়ারি বসার কথা ছিলো। কিন্তু অভিযোগকারীরাই আসেননি। তারা না আসলে কিভাবে সুরাহা করবো? আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বের কোন বিষয়ে আমরা অবগত নই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102