

মার্কিন ক্রীড়াভিত্তিক চলচ্চিত্র রকি বালবাও , যার প্রধান চরিত্রে ছিলেন সিলভারস্টার স্ট্যালন; বুড়ো বয়সে যিনি বক্সিং রিংয়ে ফিরে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন বক্সারদের অন্তর। পর্তুগালকে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে বুকে সেই চরিত্র ধারণ করলো মরক্কো।
১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার নকআউটে উঠেই মরক্কো পার করে চলেছে একে একে সব বাধা। বিদায় করেছে বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দলকে, যাদের বিপক্ষে গোলপোস্টও ছিল অক্ষত। শনিবার পর্তুগিজদের ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলছে মরক্কানরা।
মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই ম্যাচ শেষে বললেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপের রকি বালবাও।’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমরা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলাম, গ্রুপ পর্ব উতরে যেতে আমরা সবকিছু দিতে চেয়েছিলাম। আমাদের আকাশে ওঠার লক্ষ্য, এখানেই থামছি না আমরা। কিন্তু আমাদের হারানো কঠিন হতে যাচ্ছে। সুতরাং ট্রফি জয়ের স্বপ্ন কেন নয়?’
সেই পথেই যেন এগিয়ে চলেছে মরক্কো। পর্তুগাল বধের পর রেগরাগুই আরও বললেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমরা এমন একটি দল, যাদের সবাই ভালোবাসছে। কারণ আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছি যে আপনার অনেক বেশি প্রতিভা ও টাকাকড়ি না থাকলেও আপনি সফল হতে পারে।’
সেমিফাইনালে ওঠা মিরাকল বলতে নারাজ মরক্কো কোচ, ব্যাখ্যা দিলেন তিনি, ‘এটা মিরাকল নয়। আপনাদের অনেকে এমন কিছু বলবে, বিশেষ করে ইউরোপে। কিন্তু আমরা বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের বিপক্ষে কোনও গোল না খেয়ে জিতেছি। আমরা আমাদের দেশের মানুষ ও মহাদেশকে গর্বিত করেছি এবং আরও অনেক মানুষকে। আপনি যখন রকিকে দেখবেন, তখন রকি বালবাওকে সমর্থন করতে চাইবেন।’
পাঁচ ম্যাচে মরক্কো একমাত্র গোল খেয়েছে কানাডার বিপক্ষে, তাও আত্মঘাতী। পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও স্পেনের বিপক্ষে তো গোল খায়নি, এমনকি গ্রুপে রুখে দিয়েছিল আরেক সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে জয়কে এগিয়ে রাখছে তারা, কারণ এই দলটি ৬-১ গোলে আগের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছিল।
মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বোনো বলেছেন, ‘আমাকে চিমটি কাটুন তো, আমি স্বপ্ন দেখছি না তো! মরক্কো বিশ্বের যে কারও মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানসিকতা পাল্টে দিয়েছি। তারা জানবে মরক্কান খেলোয়াড়রা মিরাকল ঘটাতে পারে।’
রেগরাগুই বললেন, মরক্কানদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ চারেই শেষ হয়ে যাওয়ার কোনও কারণ নেই, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা দেখিয়েছি আফ্রিকান দলের পক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা সম্ভব। এমনকি ফাইনালও, কেন নয়? তিন কি চার ম্যাচ আগের প্রেস কনফারেন্সে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারি কি না। এবং আমি বলেছিলাম, কেন নয়? আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি। কেন স্বপ্ন দেখা যাবে না? যদি স্বপ্ন না দেখেন, আপনি কিছুই পাবেন না।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম