

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ু মানের তুলনায় বাংলাদেশের বায়ু ১৫০ গুণ বেশি দূষিত। এই উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের কারণে দেশে প্রতিবছর ৮৮ হাজার ২২৯ মানুষের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ বায়ুদূষণের কারণে দৈনিক ২৪১ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। যার অর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
‘ব্রিদিং হেভি : নিউ ইভিডেন্স অন এয়ার পলিউশন অ্যান্ড হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং বিশ্বব্যাংকের হেলথ স্পেশালিস্ট ওয়ামেগ আজফার রাজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে বড় নির্মাণ এবং ক্রমাগত যানবাহন চলাচলের এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে
বেশি। ঢাকায় বায়ুদূষণের অবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি। যা প্রতিদিন ১ দশমিক ৭ শতাংশ ধূমপানের সমতুল্য। মাত্রার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘনত্ব বৃহত্তর ঢাকার ইটভাটার কাছে পাওয়া যায়, যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৩৬ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইটভাটাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় প্রধান নির্মাণ স্থাপনা এবং যানজটের কাছাকাছি বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়া সিলেট বিভাগ, যেখানে দেশের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বায়ু রয়েছে, সেখানেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত মানের ঘনত্বের মাত্রা ৮০ শতাংশ বেশি। এতে ঢাকা ও সিলেটের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বহিরাঙ্গন বায়ুদূষণের প্রভাবও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় বায়ুদূষণের মাত্র এক শতাংশ বাড়লে একজন ব্যক্তির শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। কাশি হওয়ার আশঙ্কা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে এবং শ্বাসযন্ত্রের নিচের দিকে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি হতে পারে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার ওপরে এক শতাংশ বাড়লেই হতাশাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ২০ গুণ বেড়ে যায়।
দূষণপ্রবণ এলাকাগুলোর প্রায় ১৪ শতাংশ বাসিন্দা বিষণœতায় ভুগছেন। দেশে বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এরপরই রয়েছে বরিশাল বিভাগ। বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি বিষণ্ণতায় ভুগছেন ৬৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সীরা। সামগ্রিকভাবে দেশের বায়ুদূষণযুক্ত এলাকার ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ নারী বিষণ্নতায় ভুগছেন। আর ১১ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দূষণ কমাতে যানবাহনের জন্য উন্নতমানের তেল আমদানি করতে হবে। তামাক বন্ধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন বলেন, বায়ুদূষণ শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ২০১৯ সালে বায়ুদূষণ ছিল বাংলাদেশে মৃত্যু ও অক্ষমতার দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ।
নিউজ /এমএসএম