মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

‘ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকর্ষণে সেবাখাত হতে পারে উদীয়মান ক্ষেত্র’

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২০৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২.৩৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৬.৫ শতাংশ এসেছে সেবাখাতে। ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। দেশের ব্যাংকিংসহ জ্বালানি, অবকাঠামো, কেমিক্যাল, পর্যটন, মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রভৃতি খাতে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা আরও বেশি করে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। তবে ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকর্ষণে সেবাখাত হতে পারে উদীয়মান ক্ষেত্র।

রোববার (২৯ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা: প্রেক্ষিত সেবা খাত’ শীর্ষক ভাচুর্য়াল ডায়ালগে এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ব্যবসা পরিচালনা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে জোর দেন।

হাইকমিশনার জানান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের স্টার্টআপদের জন্য ব্রিটিশ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের বিনিয়োগ প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশস্থ ব্রিটিশ দূতাবাস কাজ করছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সেবাখাতসমূহ বিশেষ করে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা অব্যাহত রাখতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে বলে রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন মত প্রকাশ করেন।

ডায়ালগের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩.৭৫১ বিলিয়ন, যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ৮.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২.৩৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে ৬.৫ শতাংশ এসেছে সেবাখাতে।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশের সেবাখাতসহ ব্যাংকিং, জ্বালানি, অবকাঠামো, কেমিক্যাল, পর্যটন, মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রভৃতি খাতে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা আরও বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। তিনি বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করেন।

নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, ইতোমধ্যে সারাদেশে আটটি আইটি পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চারটির কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি জানান. বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোতে ইতোমধ্যে ১৬০টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে, যেখানে ২১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে প্রতিবছর ৩.৫ কোটি স্মার্ট নতুন মোবাইল ফোনের চাহিদা রয়েছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৭৫ লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদন করে থাকে।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন। আর এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে মোট রপ্তানির ১৩ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮০টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত তথ্য-প্রযুক্তি, সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। স্থানীয় বাজারের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ প্রতিবছর ২২ হাজারের বেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে থাকে এবং এ ধরনের মানব সম্পদ ব্যবহারের করে ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এসবিকে টেক ভেঞ্চারস-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সনিয়া বশির কবীর বলেন, সারা পৃথিবীতেই করোনা মহামারি তথ্য-প্রযুক্তিখাতের উন্নয়নকে বেগবান করেছে, এ খাতের অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সহায়তা ও সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ সিমপ্রিন্টস টেকনোলোজি লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আসাদ-উর-রহমান নীল, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান ইমরান এবং এমএফ এশিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির তানভীর আহমেদ, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102