রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে কটাক্ষের দায়ে যুবক আটক স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ পঞ্চগড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন ভারি বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সামসুল হক ও সম্পাদক গোলাম রাব্বানি নির্বাচিত খাল খননে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের উপর হামলা লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে তিন দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রীর সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ সদস্য গ্রেফতার

মৌলভীবাজারে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪
  • ১০৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

গেল ক’দিন থেকে জেলার সবক’টি সাংগঠনিক শাখার বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়া। চলমান একাধিক মামলা ও গায়েবি মামলা হওয়ার ভয়ে এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে তারা অনেকটাই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া পরিচিত নেতাকর্মীরা হাটবাজারেও বের হচ্ছেন না।

জনসমাগম স্থলেও তাদের প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা সবকিছুই এড়িয়ে চলছেন। নতুন এই মামলায় ও গায়েবি মামলা হওয়া নিয়ে যেমন গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নেতাকর্মীরা। তেমনি তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও এ নিয়ে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। এমনটি জানাচ্ছেন জেলার বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৩টি (কুলাউড়া, বড়লেখা ও মৌলভীবাজার সদর) বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে ৫টি মামলা হয়েছে। ওই ৫টি মামলায় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত মিলে ২০৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ওই ৫টি মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীসহ বিএনপি, জামায়াতের পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। ৫টি মামলার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হয়েছে ৩টি মামলা। ওই ৩টি মামলায় এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতসহ আসামি করা হয়েছে ৯২ জনকে। আর এপর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। ৩টি মামলার মধ্যে ১টি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শিক্ষার্থী মো. আব্দুস ছালামকে। এই মামলায় ৩ জন এজাহারনামীয়। আর অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৪০/৫০ জনকে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রধান আসামিসহ ৩ জন। অপর দু’টি মামলাল ১টিতে  প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলীকে।

এই মামলায় এজহারনামীয় আসামি ৫ জন ও অজ্ঞাত আরও ৮-৯ জন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ জন।  অন্য আরও একটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিএনপিকর্মী লোকমান আহমদকে। এই মামলায় এজহারনামীয় আসামি ৫ জন ও অজ্ঞাত ১৫/২০ জন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। অপর দু’টি মামলা হয়েছে জেলার কুলাউড়া ও বড়লেখা থানায়। বড়লেখায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আব্দুল কাদের পলাশকে। এই মামলায় এজহারনামীয় আসামি ২ জন ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ জনকে। কুলাউড়ায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শামীম আহমদকে। এই মামলায় এজহারনামীয় ৫ জন। অজ্ঞাত ৮০/৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ৩ জন। এই ৩ উপজেলার মামলা ছাড়াও নতুন গায়েবি মামলা হওয়ার ভয়ে জেলা বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্ক নিয়ে পুলিশি ধরপাকড় এড়াতে দিনে থাকছেন সর্তক। আর রাতে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন তারা।

অভিযান অব্যাহত থাকায় আবার অনেকেই পুলিশের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র কয়েকদিনের জন্য অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুন বললেন, দেশে চলমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকটি মামলা হয়েছে শুনেছি। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কে বা কারা মামলা করেছে কাদের আসামি করা হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো কিছু জানা হয়নি। তবে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারছেন না। জেলা জুড়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এমনটিই জানাচ্ছেন। তিনি দেশে চলমান ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা জানান।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী বলেন, মিথ্যা অজুহাতে একেবারে অন্যায়ভাবে পুলিশ জেলা জামাতের আমীরকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। বিনা ভোটের সরকার জনতাকে, গণতন্ত্রকে ভয় পায় বলেই বিরোধী মত দমনে মরিয়া। তারা একটি বাহিনীকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। দেশ জুড়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত না থাকলেও ওদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। জামায়াত দেশ ও জনগণের স্বার্থে সকল গণতান্ত্রিক ন্যায্য দাবি আদায়ের ও শৃঙ্খলিত আন্দোলনের সঙ্গে সব সময়ই একমত পোষণ করে। দেশে এতগুলো মেধাবী শিক্ষার্থী ও সাধারণ নিরীহ জনগণকে হত্যা করে সরকার এখন বিরোধী দলের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে চাইছে।

এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বিপিএম, পিপিএম (বার) মুঠোফোনে জানান, মামলা তো আর এমনি এমনি হয় না। জেলার যে যে উপজেলায় ঘটনা ঘটেছে ওই উপজেলায়ই মামলা হয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছে তাদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102