বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক ভাবে নাপা ট্যাবলেটের মূল্য বৃদ্ধি

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ৫০৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

তন্ময় দেবনাথ, রাজশাহী : রাজশাহীর বাঘায় করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি হঠাৎ করে সর্দি জ্বর ও কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই এসব রুহের আলামত নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পরিচিত প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছে রোগীরা।

বাঘায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে করোনার কারণে। করোনা কালিন সময়ে সর্দি জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ডাক্তারগন প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ নাপা লিখে থাকেন। কিন্তু ঔষধ কোম্পানির ( প্যারাসিটামল) নাপা ঔষধের সরবরাহ হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় বাঘায় ফার্মেসি গুলোতে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে (১৫ থেকে ২০ টাকা পাতা) । মূলত ১পাতা নাপা (প্যারাসিটামল ) ওষুধের দাম মাত্র ৮ টাকা ।

উপজেলা সদরের কচি ফার্মেসী, রিদওয়ানুল্লাহ ফার্মেসী, ফারিয়া ফার্মেসী, দরগাহ ফার্মেসী, সাগর ফার্মেসী ও বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের জননী ফার্মেসী, স্বপন ফার্মেসী, ইসতেহাক ফার্মেসী, সিটি ফার্মেসী,মা মেডিসিন কর্নার ও মেডিসিন কর্নারে নাপা ট্যাবলেট (প্যারাসিটামল) পাওয়া যায়নি। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ফার্মেসী গুলিতে পাওয়া যায়নি নাপা ট্যাবলেট।

বাঘা বাজারের মাজার গেটের সামনে শাহদৌলা ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে আসা আমোদপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের (৬৩) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই ফার্মেসী থেকে গত সপ্তাহে ৮ টাকা পাতা নাপা কিনেছি ১২ টাকায়, আজ কিনলাম ১ পাতা নাপা ১৫ টাকায়।

এ ব্যাপারে শাহদৌলা ফার্মেসীর মালিক আব্দুল আলীম জানান,গত ১ মাসের ও বেশি সময় ধরে নাপা ট্যাবলেট সাপ্লাই বন্ধ থাকার কারনে বাহিরে থেকে বেশি দামে কিনে আনি তাই নাপা ১৫ টাকা পাতা বিক্রি করতে হচ্ছে।
এই নাপা (প্যারাসিটামল) উপজেলার মফস্বল বাজার গুলোর ফার্মেসীতে প্রতি পাতা ট্যাবলেট ২০ -২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বেক্সিমকো ফার্মা’র বাঘা উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি জুয়েল রানা (৪জুলাই)মুঠোফোনে বলেন, চাহিদা বেশি হওয়ায় গত ৭ দিন ধরে ঘাটতি পড়েছিল। তবে গত কাল শনিবার থেকে সব দোকানে চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ সরবরাহ করা হয়েছে। বাজারে এখন আর নাপা (প্যারাসিটামল) এর কোন ঘাটতি নেই।

এ বিষয়ে এরিয়া ম্যানেজার আমির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কোম্পানি থেকে সরবরাহের কোন কমতি নেই। চলমান লকডাউনের কারনে কোম্পানির গাড়ি কোথাও চলাচলে বিঘ্ন ঘটেনি তাই বাজারে নাপা ট্যাবলেট এর (প্যারাসিটামল) ঘাটতি পড়ার কোন কারন নেই।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাসেদ আহমেদ বলেন, এই করোনাকালীন সময়ে বাঙালির যে অবস্থা, নাপা (প্যারাসিটামল) যার প্রয়োজন সে কিনেছে আর যার প্রয়োজন নেই সেও কিনে বাড়িতে জমিয়ে রেখেছেন। ঔষধ কোম্পানি চাহিদা মত তৈরি করে, এই করোনা কালে চাহিদা বেশি হওয়ায় সরবরাহ করতে পারছে না বলে আমার মনে হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, এ ব্যাপারে আমার তেমন কিছু জানা নেই। তবে কোন ফার্মেসী অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102