ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের বেসরকারি ফলাফলে বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থীসহ মোট ছয়জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মোট ভোটের কমপক্ষে আট ভাগের এক ভাগ (১/৮ অংশ) ভোট পেতে হয়। দেখা যায়, হিসাবে পঞ্চগড়-২ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩৯ হাজার ৩৯৪টি ভোট। এতে করে এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন নির্ধারিত ভোটে কোটা পূরণে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. কামরুল হাসান প্রধান (হাতপাখা প্রতীক) তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৯১ ভোট; জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. লুৎফর রহমান রিপন (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ২ হাজার ১৫২ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মো. আশরাফুল আলম (কাস্তে প্রতীক) পেয়েছেন ৯৩৫ ভোট, বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত মো. এমরান আল আমিন (মোটরগাড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৯৫৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি মনোনীত মো. দেলোয়ার হোসেন (একতারা প্রতীক), পেয়েছেন ১ হাজার ৩৫২ ভোট; এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন (ঘোড়া প্রতীক), পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৪ ভোট।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পঞ্চগড়-২ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পঞ্চগড়-২ আসনে পোস্টাল ভোটসহ মোট ১৩৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. সফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড়-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫২৯ জন। মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৯টি। বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ১৫৮টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ৩০৭, যা মোট ভোটারের ৭৭ দশমিক ১৯ শতাংশ।