

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে বুধবার থেকে ব্যালট বক্স ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। ভোটের আগের দিন সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, মোট ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্ব পালন করবেন ৮২৪ প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার। সব মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রে ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকবেন।
আসনভিত্তিকভাবে যশোর–১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের ৫৭৭ কক্ষে ১০২ প্রিসাইডিং অফিসার, ৫৭৭ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ১৫৪ পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। যশোর–২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রের ৯০৫ কক্ষে ১৭৫ প্রিসাইডিং অফিসার, ৯০৫ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৮১০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর–৩ (সদর) আসনে ১৯০ কেন্দ্রের ১ হাজার ১৮৩ কক্ষে ১৯০ প্রিসাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৮৩ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৩৬৬ পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। যশোর–৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের ৮৬৯ কক্ষে ১৪৮ প্রিসাইডিং অফিসার, ৮৬৯ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৭৩৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর–৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮ কেন্দ্রের ৭২০ কক্ষে ১২৮ প্রিসাইডিং অফিসার, ৭২০ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪৪০ পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। যশোর–৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১ কেন্দ্রের ৪২৫ কক্ষে ৮১ প্রিসাইডিং অফিসার, ৪২৫ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৮৫০ পোলিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন।
ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিচয় যাচাই ও কাগজপত্র মিলিয়ে ব্যালট বক্স হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি পরিবহন গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসন বাড়তি নজরদারি করছে।
যশোর সদরের নিমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মিলন হোসেন বলেন, “নির্বাচনী সব সরঞ্জাম গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সতর্ক থাকব।
চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যালট বক্স ও কাগজপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের দিন কোনো ধরনের শৈথিল্য হবে না। আমরা কেন্দ্রে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে থাকব।
বুধবার যশোর জিলা স্কুলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬, সিপিসি-৩ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, দুই জেলার আটটি সংসদীয় আসনে মোট ১৬টি টহল দল ও গোয়েন্দা ইউনিট নির্বাচনী পরিবেশ মনিটর করছে। শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চলছে। তিনি স্থানীয়দেরও আহ্বান জানান, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে র্যাব বা থানায় জানাতে হবে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ থাকবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে গড়ে ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের বডি ক্যামেরা থাকবে এবং সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে মনিটর করা হবে। গোলযোগের খবর পাওয়া গেলে রিজার্ভ ফোর্স দ্রুত পৌঁছাবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান জানান, জেলার সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বশস্ত্র পুলিশ, আনসার, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। ১১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঢাকার ৪০ জন আরও যুক্ত হয়েছেন।
ভোটপ্রক্রিয়া চলাকালে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। নির্বাচনী তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হলে যশোরের ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত, যা এলাকার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে।