বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

ক্ষমতাটা চুরির জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য: মতিয়া চৌধুরী

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২
  • ২১২ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: মতিয়া চৌধুরী সফলভাবে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদাসিধে মানুষ তিনি। তিনি প্রমাণ করেছেন, বিলাসিতা না করেও সম্মানিত জীবন যাপন করা যায়। তিনি জনগণ ও দেশকে দিয়েছেন। প্রমাণ করেছেন ক্ষমতাটা চুরির জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে এভাবে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর লেখা ‘দেয়াল দিয়ে ঘেরা বই’–এর পুনঃপ্রকাশনা অনুষ্ঠান এবং মতিয়া চৌধুরীর ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংস্কৃতিকর্মীরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন হাসানুল হক ইনু। মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক নিষ্ঠা সম্পর্কে আলোচনা সূত্রে তিনি বলেন, একটা সময় ছিল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা কারাগারে যেতেন মানুষের অধিকার আদায় করার জন্য। গণতন্ত্রকে উদ্ধার করার জন্য। ইদানীং রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা কারাগারে যান টাকা পাচার করার জন্য। সন্ত্রাস করার জন্য। মানুষের ওপর অত্যাচার করার জন্য।

ষাটের দশকে যখন বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন গতি পাচ্ছিল, সে সময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরী। ওই সময়ের স্মৃতিচারণা করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যখন তিনি জেলে ছিলেন, তখন ছাত্র ইউনিয়ন দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল। এক ভাগের নেতৃত্বে তিনি, আরেক দিকে মতিয়া চৌধুরী। দুই ভাগ হওয়ার কারণ স্বাভাবিকভাবেই মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকার কথা। তবে সম্পর্কের চরিত্র ছিল ভিন্ন। যখন তারা দুই গ্রুপে ছিলেন, তখন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের পিটুনি থেকে রক্ষা করতে মতিয়া চৌধুরী হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী রাজনৈতিক জীবন ও মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা
অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী রাজনৈতিক জীবন ও মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ডের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা 

মতিয়া চৌধুরী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মতিয়া চৌধুরী কেবল তাত্ত্বিকভাবে নেতৃত্ব দেননি। তিনি রাস্তায় থেকে, জনগণের সঙ্গে থেকে পুলিশের মার খেয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে আন্দোলন করেছেন। কর্মীদের সঙ্গে থেকেছেন। এটাই হলো প্রকৃত জননেতার চরিত্র, বৈশিষ্ট্য।

মতিয়া চৌধুরীর বইটিকে অসাধারণ গ্রন্থ উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এটি কালের সাক্ষী। রাজনৈতিক যে প্রবাহ এই দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, সেটিকে তিনি উঁচু মানের সাহিত্য রচনা করে ধারণ করেছেন। বইটি পড়ে সবাই উপকৃত হবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, এই বইতে সাহিত্যগুণ রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মতিয়া চৌধুরীর সাহিত্য গুণ প্রকাশ পেয়েছে। মসিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাম রাজনৈতিক দলের নেতা মণি সিংহের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তিনি দেখেছেন। রাজনৈতিক কারণে বিরোধ থাকলেও সম্পর্ক ভাঙতে দেখেননি।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে তার কোনো পরামর্শক ছিলেন না। যা করেছেন নিজের সিদ্ধান্তে করেছেন। এ জন্য ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে এর দায় কাউকে দেবেন না। রাজনৈতিক জীবনে বাবা–মা ও স্বজনেরা তাঁর জন্য অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন। এ জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষে মতিয়া চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মঞ্চে অবস্থানরত অতিথিরা মতিয়া চৌধুরীর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টের সম্পাদক মুকুল চৌধুরী, ট্রাস্টের সভাপতি শেখর দত্ত, উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা এস এম আব্রাহাম লিংকন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য মাখদুমা নারগিস।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102