

কমলগন্জ সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্র দলের এক সময়কার সাবেক নেতা রুবেল চৌধুরী এখন কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। যা নিয়ে স্থানীয় কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে ও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য কেউ মুখ খোলতে নারাজ।
ছাত্রলীগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বিএনপির সহযোগী সংগঠন কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্র দলের কমিটিতে ছিলেন রুবেল চৌধুরী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় রুবেল চৌধুরী ছাত্রদল লেখা সম্বলিত গেঞ্জি গায়ে দিয়ে প্রকাশ্যে তৎকালীন বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদের কাছে পরাজিত হয়। তখন রুবেল চৌধুরী ও দল পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
জানা যায় কেন্দ্রীয় বিএনপির অন্যতম সদস্য হাজী মুজিবুর রহমানের আপন চাচাতো ভাই রুবেল চৌধুরী। ২০১৭ সালের ৫ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে রাহাত ইমতিয়াজ রিপুলকে সভাপতি ও মো.শাকের আলী সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১৭ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। নানা তৎপরতায় রুবেল আহমদ ঘোষিত কমিটিতে ছাত্র লীগের সাংগঠনিক পদ ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হন।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমীরুল হোসেন চৌধুরী (আমিন) ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা,পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের আগামী ২১ মে সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর আড়াইটার মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। রুবেল চৌধুরী নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছে। সভাপতি পদে রুবেল চৌধুরী এর জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন শ্রেণীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ও প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করার সাহস দেখাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়স সীমা নির্ধারিত ২৯ বছর, ২৯ বছরের উর্ধে কেউ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবেন না এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায় রুবেল চৌধুরীর ভোটার তালিকা অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৩১ বছর, তার নিজস্ব ফেইসবুক আইডি বা সার্টিফিকেট অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৩০ বছরের উর্ধ্বে।
ছাত্রলীগের পদ পত্যাশী অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন বর্তমান সময়ে যখন সারা বাংলাদেশে ছাত্রদল নামক সন্ত্রাসী সংগঠন অরাজকতা করছে,জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে,সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসছে সেই কঠিন সময়ে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে এক সময়কার ছাত্রদল নেতা কোন সাহসে বা কার প্রভাবে মুক্তিযোদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার জন্য সিভি জমা দেয়ার মতো দূঃসাহস দেখাতে পারলো। তারা বলেন দলের মধ্যে কি ত্যাগী নেতার আকাল দেখা দিয়েছে যে,বিএনপির সহযোগী সংগঠন থেকে নেতা ভাগিয়ে এনে ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের পদ দিতে হবে!
এবিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ,মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন একাধিক ছাত্রলীগ নেতা।
এবিষয়ে আলাপকালে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন,আমাদের জানা নাই রুবেল চৌধুরী সদ্য বিলুপ্ত হওয়া উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।এছাড়াও তিনি বলেন যদি এধরণের কোনো প্রমাণ থেকে থাকে তালে কোনো অবস্থায় তাকে কোনো পদ দেওয়া হবে না। তাছাড়া বিএনপি বা অন্য কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা কেউই ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেননা।